প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫২ পিএম

দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) সভা, যেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশকে করাচি বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা পাকিস্তানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের দাবি জানিয়েছে।
বৈঠকে কৃষি গবেষণা, হালাল ফুড, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নৌ-পরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানায়, পাকিস্তান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ নতুন বৃত্তি প্রদানের প্রস্তাব করেছে এবং দেশটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সুবিধা আরও সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া পাকিস্তান সিকিউরিটি প্রিন্টিং ও ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে ব্যাংক নোট, প্রাইজবন্ড, স্ট্যাম্প ও অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী মুদ্রণে ব্যবহৃত নিরাপত্তা কালি ও কাগজের আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে চায়। ব্যাংক খাতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন ফেডারেল অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চীমা। বৈঠকে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।
এবারের জেইসি সভার সিদ্ধান্তগুলো দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে