দিনাজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. হায়াত আলী (৩১) নামের এক জুলাইযোদ্ধা নাশকতার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদী মো. হায়াত আলী দিনাজপুর সদর উপজেলার উত্তর শিবপুর গ্রামের মো. সানাউল্লাহর ছেলে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছর ৪ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে একাধিক জুলাইযোদ্ধা দিনাজপুর সদর হাসপাতাল মোড় থেকে তৎকালীন হুইপ ইকবালুর রহিমের বাসা এবং আদালত এলাকা পর্যন্ত এক আন্দোলনে অংশ নেন। ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে পুরো এলাকাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করেন। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ফলে বাদীসহ বহু ছাত্র ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হন।
এছাড়াও আহতরা গুরুতর অবস্থায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে হায়াত আলী দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি তদন্তের জন্য বিচারক মো. সামিউল ইসলাম সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মামলায় নামীয় আসামি হিসেবে রয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দিনাজপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র তৈয়ব আলী দুলাল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ শাহ আলম, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নওশাদ ইকবাল কলিংস, সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান নওশাদ, পরিবহন শ্রমিক নেতা শেখ বাদশা এবং শশরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোকছেদ আলী রানাসহ মোট ১১৮ জন। এবং বাকি ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।