বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
জৈব সারে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবনের চিত্র
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০১ পিএম আপডেট: ২১.১০.২০২৫ ১০:১১ PM

কম্পোজ সার উৎপাদন করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার শিবপুর গ্রামের মোড়ল আব্দুল মালেক। জৈব সার উৎপাদনে উদ্যোগী হয়ে এখন তিনি এলাকার অন্যদের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

২০১৩-১৪ সাল থেকে ভার্মি (কেঁচো) কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন মোড়ল আব্দুল মালেক। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ টন সার উৎপাদিত হচ্ছে, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণই নয়—চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলাতেও।

তিনি বলেন, আমি ১৪ সালের দিকে ১৮ টা নান্দা দিয়ে শুরু করছি, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করি। এখন ট্রাইকো কম্পোজ  প্রতি মাসে প্রায় ১৫ টন সার উৎপাদন হয়। এ কাজে সহযোগিতা করেছে ভার্মি কম্পোস্টের জন্য  বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টা, ট্রাইকো  কম্পোজ সহযোগিতা করেছে তালা এগ্রিকালচার অফিসার, ট্রায়কো কম্পোজার নির্যাস যেটা রিসেট বলা হয় এখনকার জন্য ভালো একটা সত্রা  নাশক ভিটামিন বালাইনাশক ভালো একটা কাজ করে, ট্রাইকো লিসিট  শত্রুপক্ষকে ধ্বংস করে,কিন্তু বন্ধু পোকাকে রেখে দেয়। আমার এই কারখানা প্রায় আড়াই বিঘা জমে আছে, দুইটা সার উৎপাদন হয়, আশেপাশের লোকও নাই এবং বাইরে চলে যায়, ঢাকা খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাই তরমুজের সময় বেশি যায়,আট, দশ জন লোক রেগুলার কাজ করে, এ সারের  মূল উপাদান কবর এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করি। 

তাঁর মেয়ে শাহিনূর ইয়াসমিন শিলার ভাষায়, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য আমাদের জৈব স্যারের কোন বিকল্প নেই, এখানে সরকার ভূমিকা রাখতে পারে কৃষি কর্মকর্তা মাধ্যমে কৃষকের হাতে পৌঁছিয়ে দেয়, রাসায়নিক সারের জন্য সরকার তো অনেক খরচ করে, ওইটার পরিবর্তে কম খরচে এই সার যদি কৃষকের হাতে তুলে দেয়, উপকৃত হবে এই ফসল আমরা খাই আমরাও খানদের দিক থেকে নিরাপদ থাকবো।  

তালার কৃষক মুকুল সরদার বলেন, আমাদের নিজেদের জমিতে কেঁচো সার ব্যবহার করি। এতে উৎপাদন খরচ কমে যায়, ফলনও ভালো হয়। রাসায়নিক সারের তুলনায় এটি বেশি উপকারী হওয়ায় কৃষকরা এখন জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে প্রায় ৫ শত জন খামারিকে নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সারের প্রদর্শনী করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার ছোট-বড় খামারি নিয়মিতভাবে এই সার উৎপাদন করছেন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত সার জেলার বাইরে বিক্রি হচ্ছে।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সারের এক নতুন সম্ভাবনার নাম। গোবর ও অন্যান্য জৈব উপাদান থেকে কেঁচোর মাধ্যমে উৎপাদিত এই সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষকরা এখন এই সারের উৎপাদন ও ব্যবহারে ব্যাপকভাবে উৎসাহী হচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে আমরা তাদের সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

সাতক্ষীরার জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফসল ফলাতে গেলে কতগুলো বিষয় আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয় ভালো মাটি, ভালো বীজ, ভালো স্যার ও সেষ,এবং কৃষকের পরিশ্রম একটি গাছের জন্য মুখ্য উপাদান আছে নয়টি এবং কম পরিমাণে লাগে আরো আছে নয়টি এ নবমগুলো আমরা সাধারণত মাটিতে প্রয়োগ করি না জৈব সারের মাধ্যমে এই নবম গুলা পেয়ে থাকে, এইজন্য জৈব সার ব্যবহারের জন্য আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি, এটা মাটির গঠন প্রক্রিয়া উন্নত করে, মাটিতে সব রকমের পুষ্টি সমাহার করে, মাটিতে যে বিষাক্ত গ্যাস জমা হয় জৈব সারের সেগুলো ধ্বংস করে, মাটি ভাঙার জন্য যে অনু জীব লাগে সেগুলো জৈব পদার্থ সরবরাহ করে, যে মাটিতে যত জৈব পদার্থ বেশি, সেখানে অনুজীবের বংশবৃদ্ধিবেশী, মাটির উপাদানের গ্রহণযোগ্যতা বেশি, এবং গাছ সেই মাটিতে সবচেয়ে বেশি ভালো হয় 

সাতক্ষীরা জেলায় জৈব সার সংরক্ষণ ভার্মি কম্পোজ , ড্রাইকো কম্পোজ, কম্পোজ স্যার সহ প্রায় ৫০ হাজার কৃষক আছে যারা খামারি পর্যায় উৎপাদন করে, কেউ কেউ বেশি আকারে উৎপাদন করে পার্শ্ববর্তী কৃষকের কাছে বিক্রি করে, নিজের আহ্বান হচ্ছে, জৈব কম্পোজ মাটির প্রাণ এই টার কোন বিকল্প নেই,এটা আমাদের দিতে হবে জাতিকে আমরা নিরাপদ খাদ্য দিতে চাই তাহলে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করতে হবে, আর মাটি রক্ষা করতে গেলে জৈব সারের কোন বিকল্প নেই। 

তালায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন এখন শুধু একটি কৃষি উদ্যোগ নয়, এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। 

স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  জৈব সার  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close