প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫১ পিএম

দেবিদ্বারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি খালের উপর দোকান নির্মাণ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে অবৈধ দখলদারিত্ব। উপজেলার ৬ নং ইউনিয়নের ফতেহাবাদ বাজারে সরকারি খাল দখল করে পাকা বিল্ডিং ও দোকান নির্মাণের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি খালের উপর ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০টি অবৈধ দোকান গড়ে তোলা হয়েছে এবং নতুন করে আরও নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে বাজারটি ধীরে ধীরে অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি খাস জমি ও খালের উপর নির্মিত এসব অবৈধ দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ কীভাবে দেওয়া হলো? স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দেবিদ্বার উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষের বিনিময়ে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে এসব অবৈধ দোকানে সংযোগ দিয়েছেন। অথচ একই সময়ে বহু আবাসিক গ্রাহক বছরের পর বছর আবেদন করেও নিয়মিত মিটার পাচ্ছেন না।
ফতেহাবাদ বাজারের সাধারণ মানুষ জানান, খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অবৈধ দোকানের কারণে বাজারে ভিড়, যানজট ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের নামে চলছে দুর্নীতি ও অনিয়ম।
এলাকাবাসী দেবিদ্বার উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম এবং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করা, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা, ঘুষবাণিজ্যে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকৃত আবাসিক গ্রাহকদের দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাস জমি ও খালের উপর অবৈধ দখল-নির্মাণ শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
দেবিদ্বার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০১ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আকিয়াব হোসেন বলেন, “আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। লিজ মালিকানা আছে কিনা তা দেখতে হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফয়সল উদ্দিন বলেন, “আমি আপনার মাধ্যমে শুনেছি। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি সরকারি খাল দখল করে থাকে, অতিশীঘ্রই উচ্ছেদ করা হবে।”