প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:৩২ পিএম আপডেট: ২১.১০.২০২৫ ৪:৩৯ PM

পাঁচবিবিতে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক, ব্যবসায়ী, হিমাগার কর্তৃপক্ষ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অতিরিক্ত আলু উৎপাদনের কারণে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরা। অন্যান্য বছরগুলোতে আলুতে লাভের মুখ দেখলেও এবার আলু তাদের কপাল পুড়িয়েছে। অপরদিকে কৃষকদের লোকসান কমাতে সরকার হিমাগার গেটে আলুর দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও সরকার নির্ধারিত দামে আলু ক্রয়ের লোক না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ করেছেন চাষিরা।
কৃষক ও বীজ আলুর ডিলাররা জানান, মৌসুমের শুরুতেই বীজ আলুর বাজার ছিল সিন্ডিকেটের দখলে। এজন্য সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বীজ আলু সংগ্রহ করতে হয়েছে কৃষকদের। এর সঙ্গে সার, শ্রমিক ও কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে প্রতি বিঘায় আলু চাষে ব্যয় হয়েছে ৪০–৫০ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে বাজারে ধস নেমেছে। এতে বড় ধরনের লোকসান পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার রায়গ্রাম এলাকার কৃষক জাকারিয়া জানান, এ বছর চড়া দামে আলুর বীজ কিনে প্রায় ৫৮ বিঘা জমিতে আলুর প্রজেক্ট করেছিলেন। মৌসুমের শুরুতে তিন ভাগের এক ভাগ আলু বিক্রি করেন, বাকিগুলো বিক্রি ও বীজের জন্য স্থানীয় একটি হিমাগারে রেখে দেন। বর্তমানে যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে হিমাগারের ভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে তিনি হাতে পাচ্ছেন মাত্র ১০০ থেকে ১৪০ টাকা প্রতি বস্তায়।
মৌসুমী আলু ব্যবসায়ী বাবু জানান, তিনি এ বছর কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে প্রায় ৩০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছেন। তার প্রতি বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে খরচ হয়েছিল ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে হিমাগারে প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। এতে প্রতি বস্তায় লোকসান হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। সেই হিসেবে ৩০০ বস্তায় প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার চাঁনপাড়া সাথী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. সামছুল হক বলেন, হিমাগারে সংরক্ষিত আলু প্রতিদিন ৫–৬ হাজার বস্তা বের হওয়ার কথা থাকলেও বের হচ্ছে মাত্র ২ থেকে আড়াই হাজার বস্তা। এজন্য মালিক পক্ষকে ঋণ নিয়ে হিমাগারের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত হিমাগারে আলু সংরক্ষণে রাখা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আলু বের না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এতে মালিক পক্ষও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।