প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০৮ পিএম আপডেট: ২০.১০.২০২৫ ৯:১৩ PM

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ভণ্ড কবিরাজের কাছে ছোট বোনের ‘জিন ছাড়াতে’ গিয়ে এক গৃহবধূ (১৯) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে ভুক্তভোগীর মা দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ভণ্ড কবিরাজের নাম কুদ্দুস মিয়া (পিতা মৃত আব্দুল কাদের জিলানী), তিনি উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সকালে গৃহবধূ তার ছোট বোনকে ‘জিন ছাড়ানোর’ উদ্দেশ্যে কুদ্দুস কবিরাজের বাড়িতে নিয়ে যান। চিকিৎসার একপর্যায়ে কবিরাজ কুদ্দুস নানা কৌশলে গৃহবধূকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও করেন।
পরবর্তীতে সেই ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে প্রায় এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন কুদ্দুস মিয়া। সম্প্রতি আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করলে গৃহবধূ তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন অভিযুক্ত কবিরাজ।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাংবাদিকদের বলেন,“আমি আমার ছোট বোনকে জিন ছাড়াতে নিয়ে যাই কবিরাজ কুদ্দুসের কাছে। চিকিৎসা শুরুর আগে সে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরে আমাকে কক্ষে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও দেখিয়ে টাকার দাবিও করে। বিভিন্ন সময় ভয় দেখিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আমার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে আরও তিন লাখ টাকা নেয়। টাকা ফেরত চাইলে ভিডিও ফাঁসের হুমকি দেয় এবং অবশেষে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।”
গৃহবধূর মা জানান, “ভণ্ড কবিরাজের ফাঁদে পড়ে আমার মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবিরাজ কুদ্দুস মিয়া বলেন, “তাদের এক মেয়ে আমার কাছে চিকিৎসা করিয়েছে, কিন্তু ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি তখন কক্সবাজারে ছিলাম।”
দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীর মায়ের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ