
কুয়েটে লবণাক্ত পানি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাতটি আবাসিক হলের মধ্যে পাঁচটিতেই দীর্ঘ দিন ধরে চলছে লবণাক্ত পানির সমস্যা। সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চুল পড়া, ত্বকের রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। শুধু তাই নয়, লবণাক্ত পানির প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মূল্যবান ধাতব যন্ত্রপাতি ক্ষয় হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দৈনন্দিন ব্যবহারে লবণাক্ত পানির কারণে তাদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গোসলের সময় এই পানি মুখে নিলে অস্বস্তি অনুভূতি সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেকের ত্বকে চুলকানিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং চুল পড়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, লবণাক্ত পানি মুখে গেলে বমি ভাব আসে। গোসলের পর শরীর আরও বেশি অস্বস্তিকর লাগে। চুল পড়ে যাওয়া তো নিত্যদিনের ঘটনা।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও বিভাগীয় যন্ত্রপাতিতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বেশ কয়েকটি মূল্যবান যন্ত্র লবণাক্ত পানির কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজন কুমার রাহা বলেন, লবণাক্ত পানির কারণে আমাদের প্রায় ৮ লক্ষ টাকার অটোক্লেব (Autoclave) মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যাবের বেশ কয়েকটি মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে।
এছাড়াও বিভিন্ন হল ও বিভাগের পানির লাইনেও দ্রুত মরিচা ধরে যাচ্ছে, ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বাড়ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, লবণাক্ত পানির সমস্যাটি আমাদের নজরে আছে। ইতোমধ্যে নতুন কয়েকটি হলে এই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং সেখানে এখন সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাকি হলগুলোতেও দ্রুতই এই সংকট নিরসনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, খুব শীঘ্রই সকল শিক্ষার্থীকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও কবে নাগাদ এই সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে। তারা দ্রুততম সময়ে সকল হলে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।