প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:২৪ পিএম আপডেট: ১৭.১০.২০২৫ ৪:২৮ PM

ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জে এবারের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল হয়েছে। যার মধ্যে পাঁচটি কলেজ এবং দুইটি মাদ্রাসার একজন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত সাত বছরে জেলায় একসঙ্গে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফেল হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
তথ্য অনুযায়ী, শতভাগ ফেল করা কলেজগুলো হলো- শাহজাদপুরের খুকনি মাল্টিলেটার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ড. মোজাহারুল ইসলাম মডেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ সদরের ছোনগাছা মহিলা কলেজ, তাড়াশ উপজেলার মধুনগর আদিবাসী আদর্শ কলেজ এবং রাণীরহাট আদর্শ কলেজ। এছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত আলিম পরীক্ষায় উল্লাপাড়ার পুকুরপাড় এস অ্যান্ড বি ফাজিল মাদ্রাসা এবং বন্যাকান্দি আলিম মাদ্রাসার সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা আক্তার জানান, ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক সংকট, অনিয়মিত ক্লাস এবং শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহের অভাবকে এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে শতভাগ ফেল করা কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর অধ্যক্ষদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
শিক্ষা বিশ্লেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ফল কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, বরং জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, দুর্বল প্রশাসনিক তদারকি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা শিক্ষার মানকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে, কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই। নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর সিরাজগঞ্জে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দুইটি। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতটিতে, যা জেলার শিক্ষা খাতে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আরো পিছিয়ে পড়বে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো