বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু      পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      
তিতাসে মাদ্রাসার কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৫২ পিএম
তিতাসে মাদ্রাসার কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

তিতাসে মাদ্রাসার কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দুধঘাটা নূরে মোহাম্মদী (স.) দাখিল মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও প্রধান গেটের নির্মাণকাজ না করেই বরাদ্দের পুরো টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাদ্রাসাটির সীমানাপ্রাচীর ও মূল গেট নির্মাণের জন্য ১৫ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই মাদ্রাসার সুপার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী যৌথ স্বাক্ষরে বরাদ্দের শতভাগ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মাদ্রাসার দাতা সদস্য ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সানোয়ার হোসেন সরকার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. শাহীনুর ইসলামের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, দুধঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও প্রধান ফটক নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর কার্যাদেশ হয়। কাজটি ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কাজটি পায় বুড়িচং উপজেলার মালাপাড়ার উত্তর শ্যামপুরের মেসার্স জাহানারা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় এক বছর হতে চললেও নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি এবং কাজের জন্য কোনো মালামাল মাদ্রাসায় আনা হয়নি। কিন্তু গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. বজলুর রহমান মোল্লার যৌথ স্বাক্ষরে মেরামত ও সংস্কারকাজের সমাপ্তি এবং হস্তান্তর সনদ দেখিয়ে কাজের বরাদ্দ করা শতভাগ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও গেটের নতুন কাজের কোনো চিহ্ন নেই, আগের টিনের সীমানাপ্রাচীর এবং পুরোনো গেটই রয়েছে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি গত দুই মাস আগে জেনেছি। তবে আমি কোনো স্বাক্ষর দিইনি। আমার স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করেছে। এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বজলুর রহমান মোল্লা নিজেই আমার কাছে লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন। বিশেষ প্রয়োজনে সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মিলে তারা আমার স্বাক্ষর জাল করে কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করেছেন।

মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সানোয়ার হোসেন সরকার বলেন, মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও প্রধান ফটকের কাজ না করে টাকা উত্তোলন করায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. শাহীনুর ইসলামের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. শাহীনুর ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 এর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাহানারা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিল্লাল হোসেনকে ফোন করলে তিনি বলেন, আমি অসুস্থ, হাসপাতালে আছি, পরে কথা বলব।

সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনিও ধরেননি।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বজলুর রহমান মোল্লাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন ব্যস্ত, আপনাকে পরে ফোন দেব। এই বলে দ্রুত ফোনটি কেটে দেন।

এদিকে স্থানীয় চর কাঠালিয়া গ্রামের সাইদুল মেম্বার, খবির হোসেন, নন্দিচরের ইলিয়াস সরকার, দুধঘাটা গ্রামের কামাল হোসেন ও জামান মিয়া জানান, মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম সীমানাপ্রাচীর ও মূল গেটের জন্য ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছিল। কিন্তু কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। যারা কাজ না করেই সরকারি টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন, তাদের উপযুক্ত বিচার চান আমরা।


স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম



আরও সংবাদ   বিষয়:  তিতাস  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close