প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩৯ পিএম আপডেট: ১৬.১০.২০২৫ ১১:৫২ PM

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ।
মোছা. লিপি আক্তার (৩৫) নামে ওই নারী মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজবাড়ীর পাংশা আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১১ জুন বিকেল ৫টার দিকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসার জন্য লিপি আক্তার পাংশা উপজেলার শিল্পকলা রোডের দিশা মেডিকেয়ার হাসপাতালে যান। তিনি কালুখালী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আনজুয়ারা সুমি—যিনি বর্তমানে রাজবাড়ী উপজেলার কলিমহর মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে প্রেষণে কর্মরত—রোগীর সম্মতি ছাড়াই এমন একটি ওষুধ দেন, যা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। ওই ওষুধ সেবনের পর লিপি আক্তারের তীব্র পেটব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে ১৮ জুন তার গর্ভপাত ঘটে।
লিপি আক্তার অভিযোগ করেছেন, ডা. সুমি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অর্থলোভী আচরণ করেছেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তার গর্ভপাত ঘটিয়েছেন। বাদী আরও দাবি করেন, এটি ছিল তার ষষ্ঠ সন্তান—এর আগেও তার পাঁচটি সন্তান গর্ভেই নষ্ট হয়ে যায়।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আনজুয়ারা সুমি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি রোগীর চিকিৎসায় যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দিইনি। বরং রোগীর পূর্বেও একাধিকবার গর্ভপাতের ইতিহাস রয়েছে।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদ হোসেন জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ