প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২৪ পিএম আপডেট: ১৬.১০.২০২৫ ১১:২৬ PM

নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল বাংলাদেশ—পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে এরপর ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াই করেও জয়ের দেখা মেলেনি। টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের ফলে কার্যত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পথে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
আজ সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে মাইটি অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল টাইগ্রেসরা। কিন্তু হিলির নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশের মেয়েদের ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে নারী বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে। পাঁচ ম্যাচে অজিরা এখনো অপরাজিত।
ভারতের ভিশাখাপত্নমে টস জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। ওপেনার সোবহানা মোস্তারির অপরাজিত ৮০ বলে ৬৬ রানের ইনিংস ভর করে বাংলাদেশ ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে—যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
তবে ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হলেও দ্রুত উইকেট হারায় টাইগ্রেসরা। দলীয় ৩২ রানের মাথায় ভাঙে ওপেনিং জুটি। ২৪ বলে ৮ রান করে ফেরেন ফারজানা হক। দ্বিতীয় উইকেটে ঝিলিক ও শারমিন আক্তার ৪১ রানের জুটি গড়লেও ঝিলিক আউট হন ৫৯ বলে ৪৪ রান করে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পড়ে দল। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি আবারও ব্যর্থ হন ইনিংস বড় করতে।
শেষদিকে সোবহানা মোস্তারি একাই দলের রানের হাল ধরেন। তার ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম ফিফটি। তবে অন্য প্রান্তে কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
ফিল্ডিংয়ে আজ কিছুটা ঢিলেঢালা ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ফিল্ডাররা কমপক্ষে পাঁচটি ক্যাচ হাতছাড়া করলেও, বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে ২০০ রানের নিচেই আটকে রাখতে সক্ষম হয় তারা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যাশলে গার্ডনার, অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, আলানা কিং এবং জর্জিয়া ওয়ারহ্যাম দুটি করে উইকেট নেন, আর ম্যাগান স্কট শিকার করেন একটি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়েই মাত্র ২৪.৫ ওভারে জয় নিশ্চিত করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি ৭৭ বলে ১১৩ রানে অপরাজিত থেকে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। অপর ওপেনার লিচফিল্ডও খেলেন ৭২ বলে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস।
অপরাজিত এই জয়ে শিরোপার দৌড়ে আবারও নিজেদের ভয়ংকর রূপে ফিরল অস্ট্রেলিয়া, আর বাংলাদেশ কার্যত বিদায়ের অপেক্ষায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ