
সিরাজগঞ্জে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে নিয়মিত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হলেও আইন প্রয়োগে নেই কার্যকর তৎপরতা। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
স্থানীয়রা জানান, পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. মোফাকখারুল ইসলাম ট্রাফিক বিভাগে যোগদানের পর থেকেই কার্যক্রম অনেকটা ভেঙে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখন আর আগের মতো ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায় না।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬ জন ট্রাফিক কর্মকর্তার মামলা দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও তারা দিনে গড়ে মাত্র দেড়টি করে মামলা দিচ্ছেন। অথচ সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন ও কদমফোয়ারা এলাকায় প্রতি মিনিটে প্রায় ৩০টি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে ৪৬৮টি মামলায় আদায় হয়েছিল ২৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় ১৬ লাখ টাকায়। সেপ্টেম্বরে আরও কমে মাত্র ১১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা আদায় হয়েছে ২৯১টি মামলায়। যা আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
এ অবস্থার জন্য দায়ী করা হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তার শারীরিক অসুস্থতা, আগ্রহের অভাব এবং স্থানীয় নানা চাপকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, টিআই মোফাকখারুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় আগের মতো দায়িত্ব নিতে পারছেন না, মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঝামেলা এড়াতে চাইছেন।
এদিকে, প্রায় এক বছর আগে কড্ডার মোড়ে ট্রাফিক অফিসটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরও নতুন করে কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা বেড়েছে।
সাধারণ মানুষ এর সরাসরি ভুক্তভোগী। সমাজসেবক ডা. সামিউর রহমান বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই তিনজন হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে চলে যায়, কেউ কিছু বলে না। দেখেও না দেখার ভান করে।’
এই শৃঙ্খলাহীনতা একদিকে যেমন সড়ককে করে তুলছে আরও বিপজ্জনক, তেমনি সরকারের রাজস্ব ঘাটতির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে, পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়াতে হচ্ছে বহু পরিবারকে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানান, ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম ও গাফিলতি খতিয়ে দেখা হবে। কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো হোক, যেন সড়ক হয় নিরাপদ এবং সরকারও পায় ন্যায্য রাজস্ব।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম