প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:১৭ পিএম আপডেট: ১৪.১০.২০২৫ ১২:২০ PM

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বেশি লাভের আশায় আগাম জাতের আলু রোপণে ঝুঁকছেন অনেকেই। কয়েকদিনের ভারি বর্ষণের পর রোদ পেয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষক-কিষাণীরা। চলছে হালচাষ, জমি প্রস্তুত ও রোপণ কার্যক্রম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৮ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলুর রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
এ অঞ্চলের উচ্চ জমির বেলে-দোআঁশ মাটিতে স্বল্পমেয়াদি ৫৫ থেকে ৬০ দিনের সেভেন জাতের আলু চাষ করছেন কৃষকরা। সাধারণত মৌসুমের শুরুতে নতুন আলুর দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকার ওপরে থাকে। তাই বাজারে চড়া দাম পাওয়ার আশায় আগেভাগে আলু চাষ করছেন অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগাম আমন ধান কেটে নেওয়ার পর সেই জমিতেই আলু লাগানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষিরা। জমিতে হালচাষ, সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ ও রোপণের কাজ চলছে পুরোদমে।
রণচন্ডি ইউনিয়নের আলু চাষি মোনতাজ আলী স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘এবার ৭ বিঘা জমিতে আগাম আলু লাগিয়েছি। গতবার ভালো লাভ হয়েছিল। এবারও দাম ভালো পেলে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভ হবে আশা করছি।’
পুটিমারী গ্রামের চাষি মশিউর রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া এবার আলু চাষের জন্য উপযোগী। আমার আলুর বয়স এখন ২৫ দিন। আশা করছি এক মাসের মধ্যেই আলু ঘরে তুলতে পারবো। আমাদের কিশোরগঞ্জের আলু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হয়।’
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর রহমান স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রতিবছর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয় এবং এতে কৃষকরা ভালো লাভ পান। রোগবালাই দমন ও সঠিক চাষপদ্ধতি নিশ্চিত করতে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।’
তিনি আরও জানান, সময়মতো আলু রোপণ, উপযুক্ত সারের ব্যবহার এবং পরিচর্যার মাধ্যমে কৃষকরা বিপুল পরিমাণ লাভবান হতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম