প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:২৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি
বগুড়ায় খরস্রোতা যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই গ্রাস হচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বন্যার পানি কমলেও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে যমুনার পানি বেড়েছে প্রায় ১০০ সেন্টিমিটার, আর তাতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কোটি টাকার জিও ব্যাগসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই এ ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা জানান, উপজেলা যুবলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই যমুনা থেকে বালু উত্তোলন করছেন।
ভাঙনের আতঙ্কে বুধবার থেকে সহরাবাড়ি ঘাট এলাকার অন্তত ৯টি দোকান ও ৫টি বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে মানুষ। গত ছয় মাসে ভাণ্ডারবাড়ি ও সহরাবাড়ি এলাকায় অন্তত ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও নুরুল হুদা বলেন, আমরা প্রতিবছর নদীভাঙন রোধে আবেদন করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে ১৭ বছর এই এলাকায় তীররক্ষা প্রকল্প হয়নি।
ধুনট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ অভিযোগ করেন, এই এলাকায় পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন বঞ্চনা করা হয়েছে। বালুখেকোরা যমুনা তীর ধ্বংস করছে, আর প্রশাসন দেখেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সহরাবাড়ি ঘাটে তারেক রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বটগাছও নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, ২০১৮ সালে ভাঙন রোধে দু'বার প্রকল্প পাঠানো হলেও অনুমোদন হয়নি। অস্থায়ীভাবে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৭ হাজার জিও ব্যাগ ও দেড় হাজার জিও টিউব ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো