প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:০৬ পিএম

চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র প্রাণ মাথাভাঙ্গা নদী এখন অবৈধভাবে বাঁধ ও কারেন্ট জালে মাছ শিকারের হুমকিতে। দীর্ঘদিন ধরে ‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’ চললেও এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যজীবী নদীর দুই পাড়ে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ তৈরি করে কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে মাছের পোনা, অন্যদিকে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে শ্রোতম্বিনী মাথাভাঙ্গা নদী।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর মাঝ দিয়ে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের মাঝে কারেন্ট ও সুতার জাল পেতে ডিমওয়ালা ও ছোট মাছসহ সব ধরনের দেশীয় মাছ ধরা হচ্ছে। এভাবে মাছ ধরার ফলে বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ, আর হারিয়ে ফেলছে নদী তার নাব্যতা।
দামুড়হুদার বাস্তপুর, সুবলপুর ও আমডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নদীর বুকে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য অবৈধ বাঁধ।
বাস্তপুরে শাহারত পাড়ার আক্তার হোসেন ও কলিম, সুবলপুরে গাঙপাড়ার মসজিদের নিচে লক্ষণ হালদার, আমডাঙ্গায় গোসলের ঘাটের নিচে জয়দেব হালদার ও তার সহযোগীরা এসব বাঁধ নির্মাণ করেছেন।
‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’-এর সভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে মাথাভাঙ্গা নদী রক্ষার জন্য কাজ করছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নদীকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, সেই প্রচেষ্টা চলছে। মাথাভাঙ্গা নদী চুয়াডাঙ্গার অক্সিজেন। আমাদের সকলকে নদী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।’
দামুড়হুদা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার জানান, নদীতে অবৈধ বাঁধের খবর পেয়েছি। এসব বাঁধ দ্রুত অপসারণ করা হবে। কেউ বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, ‘অবৈধভাবে বাঁধ দেওয়ার ফলে নদী যেমন নাব্যতা হারাচ্ছে, তেমনি বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় মাছ। নদী রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম