
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া ব্যাপক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোরে সংঘটিত এই হামলায় শহরের বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী।
শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও রেলব্যবস্থায় রুশ হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আগের তিন শীতকালেও রাশিয়া একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সাধারণ মানুষকে গরমের ব্যবস্থা ছাড়াই দিন কাটাতে হয়েছিল।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, শুক্রবার সকালে কিয়েভজুড়ে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভ রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে রয়েছে। তারা কিয়েভবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের আহ্বান জানায়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, রুশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ নেই। ফলে পানির সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী স্বেতলানা গ্রিনচুক বলেন, রুশ বাহিনী বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। তিনি জানান, জ্বালানি কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
রাশিয়ার হাইপারসনিক কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কায় শুক্রবার ইউক্রেনজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।
এছাড়া ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেডোরভ। ওই হামলায় সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে এবং অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি ও এএফপি