
রাতের শেষ অংশে করা আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এই সময়ে বিভিন্ন ইবাদত ও দোয়ার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:
“নিশ্চয়ই রাতে জাগরণ প্রবৃত্তি দমনে অধিক সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণে অনুকূল।”
(সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত ৬)
রাতের শেষ ভাগে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত নিম্নলিখিত আমল করতেন:
১. দোয়া ও ইসতিগফার:
শেষ রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও দোয়া করা অত্যন্ত প্ররোচিত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। তিনি বলেন—কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব; কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)
২. আল্লাহর কাছে তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা:
রাতে আল্লাহ দয়ার হাত প্রসারিত করেন যেন দিনের অপরাধী তাঁর কাছে তাওবা করে। পাশাপাশি দিনেও তিনি তাওবার জন্য হাত প্রসারিত রাখেন।
(মুসলিম, হাদিস: ৬৮৮২)
৩. নফল নামাজ আদায় করা:
শেষ রাতে নফল বা তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব বিশেষ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:
“আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।”
(সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৭৯)
৪. কোরআন পাঠ করা:
কোরআন পাঠ করা একটি মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত, বিশেষ করে রাতের বেলায়। মহান আল্লাহ বলেন:
“হে বস্ত্রাবৃত! রাতে নামাজে দাঁড়াও, কিছু অংশ ছাড়া—রাতের অর্ধেক বা তার চেয়ে কিছুটা কম, অথবা বেশি, এবং ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কোরআন পাঠ করো।”
(সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত ১-৪)
৫. তাসবিহ ও জিকির করা:
রাতের ইবাদত শুধু নামাজ ও কোরআন পাঠেই সীমাবদ্ধ নয়; আল্লাহর তাসবিহ ও জিকিরও অত্যন্ত সওয়াবপূর্ণ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:
“এবং রাতের একাংশেও তুমি তাঁর তাসবিহ পাঠ করো এবং নামাজের পরও।”
(সুরা কাফ, আয়াত ৪০)
“আর রাতের একাংশে তাঁর উদ্দেশে সিজদা কোরো এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবিহ পাঠ করো।”
(সুরা দাহর, আয়াত ২৬)
মহান আল্লাহ আমাদের সকল আমল কবুল করুন এবং আমাদের রাতের ইবাদতকে গ্রহণযোগ্য করুন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ