
‘সেফ এক্সিট’ ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের এক মন্তব্যের পর। এ নিয়ে উপদেষ্টাদের অবস্থান ঘিরে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। এরই মধ্যে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘উপদেষ্টার রোজনামচা, চালকের হেলমেট নাই ও সেফ এক্সিট’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন যোগাযোগ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
তিনি লেখেন, “গতকাল সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনে ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হই। সঙ্গে ছিলেন যাতায়াত খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মইনুদ্দিন, রেল ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা। যাত্রার আগে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলি। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ভৈরবে পৌঁছে আশুগঞ্জ রেলস্টেশন পরিদর্শনে যাই।”
স্টেশনে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, স্টেশনটির অবস্থা বেহাল। স্টেশনটি আবারও ‘বি শ্রেণিভুক্ত’ করার দাবি তোলেন এলাকাবাসী। স্টেশনের উঁচু প্ল্যাটফর্মে নারী ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ওঠানামা করতে সমস্যা হওয়ায় দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন তিনি।
এরপর সরাইল চৌরাস্তার দিকে রওনা হলে সাত-আট কিলোমিটারের পথে যানজটে পড়ে যাত্রা ব্যাহত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর পায়ে হেঁটে ও পরে মোটরসাইকেলে যাত্রা করি। কিন্তু চালক বা যাত্রীর কারও কাছেই হেলমেট ছিল না। অনেক খোঁজার পর একটি হেলমেট পেয়ে সেটি নিজেই পরিধান করি। এরপর হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিই।”
উপদেষ্টা জানান, যানজটের পেছনে সরাইল চৌরাস্তার নির্মাণকাজের পাশাপাশি চালকদের অনিয়ম ও হাইওয়ে পুলিশের দুর্বল ব্যবস্থাপনা দায়ী। ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ঠিকাদার কিছুদিন আগে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে ফিরিয়ে এনে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত সড়ক মেরামতে ছয়টি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ ১২ জন কর্মকর্তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পদায়ন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
ফেরার পথে এক সাংবাদিক তার কাছে ‘সেফ এক্সিট’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করা শোভন নয়। এই বক্তব্যের সূত্রধর নাহিদ ইসলাম আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনা। তাই তার বক্তব্যের ওপর আমি কোনো মন্তব্য করব না। তাছাড়া আমি রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্যও করি না।”
তিনি আরও বলেন, “উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সুবিধা নেইনি, কারও জন্য চাকরি বা ব্যবসার সুযোগ তৈরি করিনি। ৭২ বছরের বয়সে যদি এখন ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে ভাবতে হয়, সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।”
উল্লেখ্য, এর আগে নাহিদ ইসলাম গত ৫ অক্টোবর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “উপদেষ্টাদের অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছে, তারা সেফ এক্সিটের কথা ভাবছে।” পরে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও একই মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে গতকাল পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমি কোনো এক্সিট খুঁজছি না। দেশে ছিলাম, বহু ঝড়ঝঞ্ঝা মোকাবিলা করেছি। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশেই থেকে কাজ করব।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ