প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩৯ পিএম আপডেট: ০৯.১০.২০২৫ ৩:৪৬ PM

ফাইল ছবি
আর্থিক সংকটে পড়েছে জাতিসংঘ। বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে সংস্থাটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিচালিত নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনে বড় ধরনের কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ সদস্য ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ১৩ থেকে ১৪ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন। কেবল সামরিক সদস্যই নয়, শান্তিরক্ষা মিশনের সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক বেসামরিক কর্মীর চাকরিও ঝুঁকিতে পড়বে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যারা একাই মোট বাজেটের প্রায় ২৬ শতাংশ বহন করে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থদাতা চীন, তাদের অংশ ২৪ শতাংশ। তবে বর্তমানে জাতিসংঘের কাছে ২.৮ বিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে নতুন অর্থবছরের আগেই ১.৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল, পরে আরও ১.৩ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তারা শিগগিরই ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে, তবে বিষয়টি নিয়ে তাদের জাতিসংঘ মিশন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত আগস্টে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত ৮০০ মিলিয়ন ডলারের শান্তিরক্ষা সহায়তা বাতিল করেন। শুধু তাই নয়, তার প্রশাসন ২০২৬ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সব তহবিল বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের অভিযোগ মালি, লেবানন ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে পরিচালিত মিশন প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলবে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা, গোলান মালভূমি (ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্ত) এবং আবিয়াই (দক্ষিণ সুদান ও সুদানের সীমান্ত অঞ্চল) এসব অঞ্চলে পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনে। (সূত্র: রয়টার্স)
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো