প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:১৭ AM

ভারতে আবারও কাশির সিরাপ নিয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালস নামের একটি স্থানীয় ওষুধ কোম্পানির তৈরি ‘কোল্ডরিফ’ সিরাপ সেবনের পর ১ থেকে ৫ বছর বয়সী অন্তত ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে এ ঘটনাগুলো ঘটে বলে জানা গেছে।
দেশজুড়ে এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ ভারতের তৈরি কাশির সিরাপ সেবনে এর আগেও একাধিক দেশে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
তদন্তে জানা গেছে, শিশুদের কাশির সিরাপে সাধারণত খুব সামান্য পরিমাণে ডাইইথিলিন গ্লাইকোল নামের এক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তবে কোল্ডরিফ সিরাপে এই রাসায়নিকের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত এই রাসায়নিক শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে কিডনি বিকলসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনার পর কোম্পানিটির মালিক ও শীর্ষ নির্বাহী জি. রঙ্গনাথন-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা তামিলনাড়ুতেই অবস্থিত, এবং প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ভারতের স্থানীয় বাজারে ওষুধ বিক্রি করে—রপ্তানি করে না।
ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, বাজারে কোনো ওষুধ ছাড়ার আগে প্রতিটি ব্যাচের মান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তবে এবার কীভাবে সেই প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে সরকার।
দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)-এর প্রধান নির্বাহী রাজীব রঘুবংশী ইতোমধ্যে বাজারে প্রচলিত সব শিশুদের কাশির সিরাপের মান যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে উজবেকিস্তান, ক্যামেরুন এবং গাম্বিয়ায় ভারতের তৈরি কফ সিরাপ সেবনে ১৪১ শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর ভারত সরকার বিদেশে রপ্তানির জন্য ওষুধগুলোর মান পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা জোরদার করেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ উৎপাদক দেশ হিসেবে ভারতের শিল্পখাত বড় হলেও মান নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এখন তাদের সুনামকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ