
ভারী বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের নদনদীতে পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে রোববার (৫ অক্টোবর) ভোর থেকে ভারতের আসাম রাজ্যের দিক থেকে কালজানি নদী হয়ে ভেসে আসছে হাজার হাজার লালচে রঙের কাঠের গুঁড়ি। কেউ বলছেন চন্দন কাঠ, কেউ বলছেন জ্বালানির জন্য কেনা ‘সোনার খনি’। আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে কাঠ ধরার প্রতিযোগিতা!
স্থানীয়দের কেউ কেউ এসব গুঁড়িকে ‘রক্ত চন্দন’ বা ‘শ্বেত চন্দন’ ভেবে নিচ্ছেন, আবার কেউ সরাসরি ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। একেকটি কাঠের গুঁড়ির দাম হাঁকা হচ্ছে ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। কেউ কেউ বলছেন, ৫০ ফুট লম্বা কাঠের গুঁড়ির দাম ১ লাখ টাকারও বেশি!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে কালজানি নদী হয়ে দুধকুমার ও চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে আসে এসব কাঠ। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে-নদীতে চন্দন কাঠ! এরপরই মানুষ নৌকা, বাঁশের ভেলা, এমনকি সাঁতরে নামেন কাঠ ধরতে।
নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জের দামাল গ্রামের আব্দুল মোতালেব (৬০) বলেন, চারজন মিলে ৫০ ফুটের মতো একটা লাল গাছ তুলেছি। এটা দেখতে একদম চন্দন কাঠের মতো। আমরা দাম চেয়েছি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তবে ১ লাখ ২০ হাজারে দিলে বিক্রি করে দেব।
এদিকে অনেকে এই কাঠের গুঁড়িগুলো জ্বালানি হিসেবেও কিনছেন। কালজানি নদীর পাড়ের বাসিন্দা আজাদ হোসেন (৫৫) বলেন, আমার খড়ির গোলা আছে। একেকটা গাছের গুঁড়ি ১২ হাজার টাকায় কিনেছি। কেটে বিক্রি করব জ্বালানি কাঠ হিসেবে।
ছিটমাইলানী গ্রামের সবুজ মিয়া (৬২) বলেন, রোববার রাত থেকে পরিবার নিয়ে প্রায় ৫০০ মণ কাঠ তুলেছি। কিছুটা রাখব রান্নার করার জন্য। আর বাকিটা বিক্রি করব।
জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এই কাঠগুলো প্রকৃত চন্দন নয়। এগুলো দীর্ঘদিন পানিতে থাকার কারণে লালচে হয়ে গেছে। বেশিরভাগই পচা কাঠ।’
তিনি জানান, ভারতের বনাঞ্চল পরিষ্কার করতে নদীতে ফেলে দেওয়া এসব কাঠ স্রোতের টানে কুড়িগ্রামে ভেসে এসেছে।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদবিদ ড. মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণ কাঠ পানিতে ভিজে গেলে এর ভেতরের ট্যানিন ও ফেনলিক যৌগ বের হয়ে আসে। অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে তা লালচে রঙ তৈরি করে। এটা একদম স্বাভাবিক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া।’
তিনি আরও জানান, এই গুঁড়িগুলো চন্দন কাঠ নয়, সাধারণ কাঠই পানিতে ভিজে এমন রঙ ধারণ করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম