
শরতের বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁশফুল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা -এই মনোমুগ্ধকর প্রকৃতির মাঝে কৃষকের হৃদয় দোল খাচ্ছে মাঠভরা সোনালি ধানের শীষ দেখে। দিগন্ত জুড়ে সবুজের মাঝে সোনালি শীষের হাতছানি যেন নতুন করে আনন্দ যোগাচ্ছে কৃষকের মনে।
নানান প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবার আমনের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। ইতোমধ্যে জেলার কিছু কিছু এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আর ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে সোনালি স্বপ্ন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা।
পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলোর কৃষকদের প্রধান ভরসা প্রকৃতি নির্ভর আমন ধান। উঁচু জমি ও বেলে-দোঁআশ মাটির কারণে এই অঞ্চলে সেচনির্ভর বোরো ধানের তুলনায় আমনই বেশি চাষ হয়। এই ধানই সারা বছরের খাদ্য ও পরিবারের খরচের যোগান দেয় কৃষকদের।
তবে শুরুতেই নানা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন কৃষকরা। বৃষ্টিহীন মৌসুমের কারণে অনেকের বীজতলার চারা নষ্ট হয়েছে, কেউ কেউ বেশি খরচ করে সেচ দিয়ে রোপণ করেছেন। আবার সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় খুচরা দোকান থেকে বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও পটাশ। ফলে চাষে খরচ বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। তবুও শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের মুখে আবার আশার আলো।
আটোয়ারী উপজেলার বর্ষালুপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘আমার ৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আমন চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন হয়নি। আশা করি, খরচ বাদে লাভ হবে।’
পঞ্চগড় সদরের বোদাপাড়া গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিজের জমির সঙ্গে বর্গা নিয়ে মোট সাড়ে ৫ বিঘায় আমন চাষ করেছি। আগাম জাতের ধান দুই-একদিনের মধ্যে কাটব। তবে সারের উচ্চমূল্য ও মাজরা ও খোলপঁচা রোগ দমনে অনেক খরচ হয়েছে। প্রকৃতি ভালো থাকলে লাভ হবে বলে আশা করছি।’
একই এলাকার কামারপাড়া গ্রামের আনছারুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে আমন ধান করেছি। ফলন ভালোই হয়েছে। আল্লাহ চাইলে এবার লাভবান হবো।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার হেক্টর বেশি। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন বলেন, ‘কিছু এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফলন আশানুরূপ। মৌসুমের শুরুতে সার সংকট ছিল, তবে পরে তা সমাধান করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনে বাম্পার ফলন হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম