
ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ করে বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নীলফামারীর তিস্তা তীরবর্তী এলাকাজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদীর ডান তীরের বেশ কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা, প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকা ও চরাঞ্চল। স্থানীয় প্রশাসন মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল ৬টায় লালমনিরহাটের দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার নিচে। কিন্তু মাত্র ১২ ঘণ্টায় সন্ধ্যা ৬টায় পানি বেড়ে গিয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। রাত ৮টার দিকে তা আরও বাড়ে এবং বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে চলে যায়।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশাচাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় বাড়িঘর ও রোপা আমনের ফসল ডুবে গেছে।
ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, “দুপুরের পর থেকে পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। ঝাড় সিংহেরস্বর ও পূর্ব ছাতনাইয়ের বিভিন্ন চর যেমন খোকার চর, খাড়াপাড়া ও ফ্লাটপাড়া প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।”
টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, “বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসল তলিয়ে গেছে। মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কালীগঞ্জ এলাকায় ডান তীরের প্রধান বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে, আমরা বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে মেরামতের কাজ করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।”
পাউবো জানায়, নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করতে রেড অ্যালার্ট জারি করে মাইকিং করা হয়েছে। ভাঙনরোধ ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী পানি বৃদ্ধির ধারা, সকাল ৬টায়: ৫১.৪৩ মিটার, সকাল ৯টায়: ৫১.৪৮ মিটার, দুপুর ১২টায়: ৫২.০০ মিটার, বিকেল ৩টায়: ৫২.১৪ মিটার, সন্ধ্যা ৬টায়: ৫২.২৮ মিটার।
উল্লেখ্য, তিস্তা নদীর বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২.১৫ মিটার।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে