প্রকাশ: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩১ পিএম

উল্লাপাড়ায় গোহালা নদী ইজারা বাতিল করল প্রশাসন
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটির দেওয়া গোহালা শাখা নদী ইজারা বাতিল করেছে উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানে নদীটি পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। এতে করে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ ফিরে পেয়ে শতাধিক মৎস্যজীবি পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) উপজেলার উধুনিয়া বাজার এলাকায় স্থানীয় জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে গোহালা নদীর শাখার আড়াই কিলোমিটার অংশ দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেন এবং দরপত্রে শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় নদীটির ইজারা নেন উধুনিয়া গ্রামের ইউসুফ আলী মোল্লা। মসজিদ কমিটি উন্নয়ন তহবিল গঠনের কথা বলে এলাকায় মাইকিং করে দরপত্রের আয়োজন করেছিল।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় মৎস্যজীবীরা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি জলমহাল বা নদী ইজারা দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে মসজিদ কমিটি নদীর বড় একটি অংশ ব্যক্তির কাছে লিজ দিয়েছে। এর ফলে অন্তত শতাধিক ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জীবিকার সংকটে পড়েন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত রবিবার উধুনিয়া গিয়ে সেখানকার মসজিদ কমিটির দেওয়া গোহালা নদীর ওই আড়াই কিলোমিটার অংশের ইজারা বাতিল করেন। একই সঙ্গে ইজারাদারের কাছ থেকে নেওয়া ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এরপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয় গোহালা নদীতে এখন সবাই মাছ ধরতে পারবে, কাউকে কোনো টাকা দিতে হবে না। নদী সরকারি সম্পত্তি কেউ ইজারা দিতে পারবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, নদী সরকারি সম্পদ। এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদী ইজারা দিতে পারে না। মসজিদ কমিটির দেওয়া ইজারা বাতিল করা হয়েছে এবং ইজারাদারকে টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আগের মতোই নদীতে মাছ ধরতে পারবেন।
নদীর ইজারা বাতিল হওয়ায় উধুনিয়া গ্রামের মৎস্যজীবীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে তাদের জীবিকার পথ আবার উন্মুক্ত হয়েছে।