প্রকাশ: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫২ AM

ফাইল ছবি
গাজায় ফের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (৪ অক্টোবর) চালানো বোমা হামলা ও বিমান হামলায় অন্তত ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত সাতজন শিশু রয়েছে।
কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে উত্তর গাজার দুর্ভিক্ষপীড়িত গাজা সিটিতে। সেখানে অন্তত ৪৫ জন প্রাণ হারান। তুফফাহ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হামলায় একই পরিবারের ১৮ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের ভবনগুলোও ধ্বংস হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকাও রক্ষা পায়নি। ইসরায়েল যেটিকে আগে ‘মানবিক নিরাপদ জোন’ ঘোষণা করেছিল, সেখানেই হামলা চালিয়ে দুই শিশু নিহত ও আটজন আহত হয়েছে। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরসহ আরও কয়েকটি এলাকায়ও বোমা হামলার খবর মিলেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, জ্বালানি সংকটে উত্তরাঞ্চলের হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতাল কার্যত ভেঙে পড়েছে, ফলে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। শুক্রবার তিনি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একাধিক পোস্ট দিয়ে দ্রুত বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানান। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েল প্রাথমিক প্রত্যাহার পরিকল্পনায় রাজি হয়েছে এবং হামাসও তাঁর দেওয়া ২০ দফার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেনে নিয়েছে। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে সব ইসরায়েলি বন্দিকে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তবে হামাস নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে এখনো কোনো অবস্থান জানায়নি।
সোমবার (৬ অক্টোবর) মিশরে ইসরায়েল, হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশ নেবেন।
এদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, ট্রাম্পের আহ্বান চলমান থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। তাদের ভাষায়, এটি নেতানিয়াহুর প্রতিশ্রুতির অসত্যতার প্রমান। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম ও আরব রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর অন্তত তিনগুণ হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো