প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫০ পিএম

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে টানা কয়েক দিনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন সাধারণ মানুষ এবং তিনজন পুলিশ সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরো উপত্যকাজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে সোমবার, যখন হাজারো মানুষ রাজধানী মুজাফফরাবাদের রাস্তায় নামে। তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা—যেমন বিনা খরচে বিদ্যুৎ, দামি গাড়ি ও অন্যান্য বিশেষ সুবিধা—এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। সাধারণ জনগণ অভিযোগ করে, নেতারা নিজেদের জন্য বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন, অথচ সাধারণ মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ক্রমশ বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছায় এবং শহরের বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়, লাঠিচার্জ ও গুলি চালানো হয়।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার মুজাফফরাবাদের বিভিন্ন সড়কে রক্তের দাগ, গুলির খোসা, ভাঙা কাচের টুকরো এবং পাথর ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এসবই সাম্প্রতিক সহিংসতার স্পষ্ট চিহ্ন বহন করছে।
এক বিক্ষোভকারী, ৫১ বছর বয়সী আসাদ তাব্বাসুম বলেন, “এখানকার রাজনীতিকরা গ্যাংস্টারের মতো শাসন করছে। আমরা তাদের এই অবৈধ সুবিধাগুলো বাতিল চাই এবং চাই তারা আমাদের মতোই সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়াক।” তার মতে, জনগণের ধৈর্য্য অনেকটাই শেষ হয়ে এসেছে।
আন্দোলনের সহিংসতায় বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৭০ জন পুলিশ সদস্য ও ৫০ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভ সংগঠকরা দাবি করছেন, আহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা ১০০ জনেরও বেশি। অন্যদিকে, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। তবে সেনাবাহিনী এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ