প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩০ পিএম আপডেট: ০২.১০.২০২৫ ৯:৫৭ PM

খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি এবং গুইমারা থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার (১ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
এসব মামলায় হত্যা, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর থানায় দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাত ৬০০–৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে গুইমারা থানার দুটি মামলায় অজ্ঞাত ২৫০–৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা ও গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী।
এরই মধ্যে খাগড়াছড়ির সাপ্তাহিক হাটে পাহাড়ি ও বাঙালিদের স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা গেছে। সড়কে যানবাহন চলাচল ও দোকানপাটও স্বাভাবিক হয়েছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘‘সহিংসতার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে, রবিবার থেকে সরেজমিন তদন্ত শুরু হবে। সবকিছু স্বাভাবিক হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হবে।’’
তিনি আরও জানান, খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সহিংসতায় ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি হচ্ছে। পরে বিশেষ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনে সরকার পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে, গত শনিবার এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে অবরোধ কর্মসূচি ডাক দেয় ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’। অবরোধ চলাকালে সংঘর্ষে গুইমারায় গুলিতে তিনজন নিহত হয়। এ ঘটনায়ই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সম্মান জানিয়ে এবং প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের উপস্থাপিত ৮ দফা দাবির মধ্যে ৭টির কাজ শুরু হয়েছে। দাবি পূরণ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত হলে তারা অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো