শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● অ্যাপল আনছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন সিরি      ● বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম      ● ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৩      ● মীরসরাইয়ে সার পাচারের চেষ্টা, চার ট্রাক ও ফিশিং বোট জব্দ      ● গানের মঞ্চ থেকে রুপালি পর্দার নায়ক জাফর ইকবাল      ● জরুরি ভিত্তিতে কৃষি শ্রমিকদের ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া      ● এসি বাসের ভাড়া বেড়েছে ২০০ টাকা      ● জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের প্রতিনিধি অনুপস্থিত      ● গ্যাসের চাপ নিয়ে সুখবর দিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী      ● ড. খলিলুর রহমানের সাফল্য কামনা করলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী      ● ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বাড়ছে সচেতনতা      ● আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস      
সূরা ইয়াসীনে বর্ণিত শির্ক-কুফর-নিফাক-তাগুত-যুলুম হওয়ার বিশ্লেষণ
ডা. মো. গোলাম মোস্তফা মূসা
প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:১৭ পিএম আপডেট: ০১.১০.২০২৫ ১০:২৭ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মানব জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো ঈমান হারানো এবং আল্লাহর নির্দেশ থেকে বিচ্যুত হওয়া। ইতিহাস সাক্ষী, যখন থেকে মানুষ শির্ক, কুফর, নিফাক, তাগুত, যুলুম এবং হাওয়ার অনুসরণ করেছে, তখন থেকে তারা নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে। কুরআনের ৩৬তম সূরা, সূরা ইয়াসীন, আল্লাহর পক্ষ থেকে এক গভীর সতর্কবার্তা এবং দিকনির্দেশনা। একে কুরআনের হৃদয় (ক্বলব) বলা হয়, কারণ এতে মানুষের ঈমানকে শক্তিশালী করার জন্য মৌলিক বার্তাগুলো সংক্ষিপ্ত অথচ প্রভাবশালীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

এই সূরায় আল্লাহ বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, শির্ক থেকে দূরে থাকতে, কুফরের পরিণতি উপলব্ধি করতে, নিফাকের ভেতরকার ভয়াবহতা বুঝতে, তাগুত ও যুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং হাওয়ার খেয়াল-খুশির অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে। বলা যায়, সূরা ইয়াসীন মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। তাই এর আলোকে শির্ক, কুফর, নিফাক, তাগুত, যুলুম ও হাওয়ার বিশ্লেষণ শুধু জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়, বরং জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য অপরিহার্য।

আল্লাহর নির্দেশ, 'শির্ক পরিহার করো': 
শির্ক হলো আল্লাহর সাথে অংশীদার আরোপ করা, যা ইসলামে সবচেয়ে বড় পাপ। শির্ককে ইসলামে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সূরা ইয়াসীনে শির্কের বিরুদ্ধে সতর্কতা করা হয়েছে এবং আল্লাহর একত্ববাদকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতি আহ্বান করা হয়েছে। শির্ককে এমন পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা ক্ষমার অযোগ্য (সূরা নিসা ৪:৪৮, ১১৬)। সূরা লুকমান, আয়াত-১৩: “নিশ্চয় শির্ক সবচেয়ে বড় যুলুম”। 

সূরা ইয়াসীন, আয়াত (৩৬:৬০-৬১): "আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি, হে আদম সন্তানরা, তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না। সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করবে। এটাই সরল পথ"। এই আয়াত স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে, শায়তানের ইবাদাত করা শির্ক। তাই এই আয়াতে স্পষ্টভাবে শির্কের বিরুদ্ধে সাবধান করা হচ্ছে এবং নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, 'একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো এবং সর্বতভাবে শির্ক পরিহার করো।

আল্লাহর নির্দেশ, 'কুফর পরিহার করো': 
কুফর হলো আল্লাহকে এবং তাঁর নবী-রাসূলদের অস্বীকার করা। সূরা ইয়াসীন বারবার কুফরের পরিণতি তুলে ধরেছে। কুফরীকারীরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে। সূরা ইয়াসীন, আয়াত (৭-১০): "তাদের অধিকাংশের প্রতি শাস্তির কথা সত্য হয়ে গেছে। তারা ঈমান আনবে না। আমি তাদের গলায় বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছি... ফলে তারা সত্যকে দেখেও তা প্রত্যাখ্যান করে।" এখানে কুফরের পরিণাম তুলে ধরা হয়েছে যে, যারা আল্লাহর সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের অন্তরে এবং কাজে সঠিক পথ গ্রহণের কোনো ক্ষমতা থাকে না।

আল্লাহর নির্দেশ, 'নিফাক থেকে বেঁচে থাকো': 
নিফাক হলো কপটতা বা দ্বিমুখিতা; বাহ্যিকভাবে ঈমানের প্রদর্শন করা কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস এবং কুফরী লালন করা। নিফাক শয়তানের অন্যতম কৌশল, যা মুসলমানদের ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়। যদিও সূরা ইয়াসীনে সরাসরি নিফাক শব্দটি উল্লেখ নেই, তবে এর শিক্ষা ও নির্দেশনাগুলো নিফাকের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা বহন করে। সূরা ইয়াসীন, আয়াত-১২: "আমি সবকিছু গণনা করে সংরক্ষণ করেছি"। এই আয়াত মনে করিয়ে দেয় যে, নিফাকের কাজগুলো মানুষ গোপন রাখলেও আল্লাহর কাছে সব প্রকাশিত, লিখিত। মুনাফিকদের শাস্তি কিয়ামতের দিন হবে আরও কঠোর।

আল্লাহর নির্দেশ, 'তাগুত বর্জন করো': 
তাগুত হলো মিথ্যা দেবতা বা অত্যাচারী ক্ষমতা। তাগুত হলো সেই শক্তি যা আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং তাঁর বিধান অমান্য করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তাগুত বলতে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুতি এবং অন্য কোনো সত্তার উপাসনা বা আনুগত্য বোঝায়। এটি শয়তানের পথের সাথে সম্পর্কিত। সূরা ইয়াসীন, আয়াত ৩০-৩১: "হায়, সেই সব বান্দার জন্য দুর্ভোগ, যারা রাসুলদের উপদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কি লক্ষ্য করেনি, তাদের পূর্ববর্তী অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে?" এখানে তাগুতের পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর পথ ছেড়ে যারা অন্য ক্ষমতার কাছে মাথানত করে, তারাই তাগুতের আনুগত্যকারী, তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। 

আল্লাহর নির্দেশ, 'যুলুম করা থেকে বিরত থাকো': 
যুলুম হল ‘নিজের বা অন্যের উপর অন্যায়-অবিচার করা’। সূরা ইয়াসীনে, আল্লাহ  অন্যায়কারীদের প্রতি কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছে। সূরা ইয়াসীন, আয়াত-৫৪: "আজ কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না। তোমরা কেবল তোমাদের আমলের প্রতিফল পাবে"। এই আয়াতে আল্লাহর ন্যায্য বিচার ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহ ঘোষণা করছেন যে তিনি কারো প্রতি যুলুম করবেন না। তবে, যারা পৃথিবীতে অন্যের প্রতি যুলুম করেছে এই যুলুমকারীদের জন্য কোনো রেহাই নেই, তারা যথাযথ শাস্তি পাবে।

আল্লাহর নির্দেশ, 'হাওয়া থেকে বেঁচে থাকো': 
'হাওয়া' হলো মানুষের মনের খেয়াল-খুশী এবং প্রবৃত্তির প্রতি অন্ধভাবে সমর্পণ করা, যা আল্লাহর বিধান থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। সূরা ইয়াসীনে হাওয়া বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করার ক্ষতি এবং তার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে। সূরা ইয়াসীন, আয়াত-৭০: "... মুহাম্মাদ (ﷺ) যাতে করে জীবিতদের সতর্ক করতে পারে এবং যারা কাফের, তাদের জন্য শাস্তির কথা সত্য হতে পারে"। এই আয়াতে মানুষের ‘হাওয়া’র অনুসরণ যে কুফর, শির্ক এবং শাস্তির দিকে নিয়ে যায়, তা উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল শিক্ষা ও উপদেশ: 
(ক). শির্ক ও কুফরের ভয়াবহতা: শির্ক ও কুফরের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি। এগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস স্থাপন!

(খ). নিফাক থেকে বাঁচা: মুনাফিকদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। সৎকাজ ও আল্লাহভীতি নিয়ে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। 

(গ). তাগুতের বিরুদ্ধে অবস্থান: ইসলামী শিক্ষার ভিত্তি হলো অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আল্লাহর বিধানের পথে চলা। 

(ঘ). হাওয়ার নিয়ন্ত্রণ: নাফসের খেয়াল-খুশির অনুসরণ মানুষের ঈমান নষ্ট করে। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। 

(ঙ). আল্লাহর বিচার: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ক্বিয়ামতের দিন সবকিছুর জন্য ন্যায়বিচার করবেন। কারো প্রতি যুলুম করা হবে না।


সূরা ইয়াসীন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শির্ক, কুফর, নিফাক, তাগুত, যুলুম ও হাওয়া মানুষের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। এগুলোর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর প্রতি খাঁটি ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ মেনে সিরাত্বাল মুস্তাক্বীমের উপর চলা, তাঁর বিধান মেনে চলা এবং শয়তানের কৌশল থেকে বাঁচা। আল্লাহ আমাদের এই সকল নেতিবাচক ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্তি দিন এবং তাঁর সিরাত্বাল মুস্তাক্বীমের পথে অবিচল রাখুন। আমিন।

আল্লাহ-হুম্মা সাল্লী, ওয়া সাল্লিম, ওয়া বারিক আ’লা মুহাম্মাদ; আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন। 

স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর


আরও সংবাদ   বিষয়:  সূরা ইয়াসীন   বর্ণিত   শির্ক   কুফর   নিফাক   তাগুত   যুলুম  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close