
সংগৃহীত ছবি
নিখোঁজ হওয়ার ২১ দিন পার হলেও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি ঠাকুরগাঁও শহরের একটি মাদ্রাসার তিন ছাত্রীর।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে নিখোঁজ ছাত্রীর অভিভাবকরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বালিকা হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া তিনজন হলেন- তামান্না আক্তার (১৬), জুঁই খাতুন (১৫) ও আয়েশা খাতুন (১৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসার হাফিজি ও কিতাবি বিভাগে পড়াশোনা করছিল।
আয়েশা খাতুনের মা কোহিনুর বেগম বলেন, “নিখোঁজের একদিন আগে আমি মেয়ের সঙ্গে দেখা করি। সে কেঁদে আমাকে বলে- ‘মা, আমাকে বাড়িতে নিয়ে যাও’। আমি সেদিন তাকে বুঝিয়ে রেখে আসি। কিন্তু পরদিন থেকে মেয়েসহ আরও দুইজন নিখোঁজ। বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, কিছুই জানি না।”
তামান্না আক্তারের মা আকলিমা খাতুন বলেন, “৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকা আমাকে ফোন করে বলেন, আমার মেয়ে মাদ্রাসায় নেই। এর আগের দিন খাবারের বিষয়ে বকাঝকা হয়েছিল।”
জুঁই খাতুনের বাবা শাহজালাল বলেন, “আমরা কিছুই খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না। শুধু চাই, আমাদের বাচ্চাগুলো জীবিত ফিরে আসুক। প্রতিদিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কোথাও কোনো হদিস নেই।”
মাদ্রাসার পরিচালক শহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, ওই ছাত্রীরা পরিকল্পনা করে চারটি ব্যাগে কাপড় নিয়ে পালিয়েছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারগুলো থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর এক অভিভাবক অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ওই তিন শিক্ষার্থী ট্রেনে চড়ে ঠাকুরগাঁও রোড স্টেশন থেকে অজানা উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরবর্তীতে কমলাপুর ও এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনের সিসি ক্যামেরা চেক করা হলেও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এদিকে নিখোঁজের এই ঘটনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নেটিজেন এবং স্থানীয়দের মাঝে। তারা দাবি জানিয়ে বলছেন, আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।