
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে মঙ্গলবার যশোর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। ভোর থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণ ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
সকাল ১১টায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ বছর কুমারী হিসেবে পূজিত হন মাগুরা জেলার নারায়ণপুর এলাকার তাপস চক্রবর্তীর পাঁচ বছর বয়সী কন্যা তম্রাসতি চক্রবর্তী। দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে কুমারী তম্রাসতিকে মাতৃজ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা।
রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ বলেন, “প্রতি বছর মহাঅষ্টমীতে আমরা কুমারী পূজার আয়োজন করি। হিন্দু শাস্ত্রমতে নির্দিষ্ট বয়স অনুযায়ী কুমারীদের বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। এ বছর আমরা ৫ বছর বয়সী কুমারীকে পূজা করেছি, যা সমাজে শুভশক্তির বিকাশ ও অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটায়।”
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে পূজা অনুষ্ঠান এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। নড়াইল থেকে আসা ভক্ত ইন্দ্রজিৎ হালদার জানান, “বিশ্বের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করতে আমরা ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যশোরে এসেছি।” একইভাবে অলকা রাণী বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও সপরিবারে এসেছি। আশপাশের জেলার আত্মীয়রাও আসেন, কুমারী পূজার মাধ্যমে আমাদের একসঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎও হয়ে যায়।”
এ বছর যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ৭০৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬৫টি, শার্শায় ২৯টি, ঝিকরগাছায় ৫৪টি, চৌগাছায় ৪৮টি, বাঘারপাড়ায় ৯১টি, মণিরামপুরে ৯৭টি, অভয়নগরে ১২৬টি এবং কেশবপুরে ৯৮টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকেও পূজা আয়োজনে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের নেতারা পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করেছেন।
রাজনৈতিক দলের উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও স্থানীয় পূজা কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে উৎসবের সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখছেন।
সার্বিকভাবে যশোরের রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ হয়ে উঠেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে