প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৭ AM আপডেট: ৩০.০৯.২০২৫ ৪:৪৯ এএম

সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি এখন দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শতবর্ষী এই মিষ্টি জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আনন্দে ভাসছে নেত্রকোনাবাসী। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায় প্রায় ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও নরম আকৃতির কারণে এর নামকরণ হয় ‘বালিশ মিষ্টি’। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের আগেই তৎকালীন কালীগঞ্জে মিষ্টিটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। স্বাদ, মান ও স্বকীয়তার কারণে আজও মানুষ উদ্ভাবক গয়ানাথ ঘোষের নামেই একে চিনে।
গয়ানাথ ঘোষ দেশভাগের সময় ভারতে না গিয়ে নেত্রকোনাতেই থেকে যান। বয়সজনিত কারণে ১৯৬৯ সালে তিনি দোকানটি কুমুদ চন্দ্র নাগের কাছে বিক্রি করেন, পরে সেটি নিখিল মোদকের হাতে আসে। তবে দোকানের নাম ‘গয়ানাথ ঘোষ’ হিসেবেই রয়ে যায়। ধীরে ধীরে এই বিশেষ মিষ্টির খ্যাতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোজনরসিকরা দূর-দূরান্ত থেকে স্বাদ নিতে নেত্রকোনায় আসতে থাকেন।
কবি-সাহিত্যিকরাও এই বালিশ মিষ্টি নিয়ে লিখেছেন। প্রথমে শখের বশেই গয়ানাথ ঘোষ কোলাকৃতি বালিশের আদলে মিষ্টিটি তৈরি করেছিলেন। তার অজহর রোডের ছোট্ট দোকানে প্রায় সব ধরনের প্রচলিত মিষ্টি তৈরি হলেও ‘বালিশ’ আলাদা পরিচিতি পায়। বর্তমানে আদি দোকানের পাশাপাশি শ্রী কৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, আলেফ খান সুইটস, খান মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মুক্তি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ আরও কয়েকটি দোকানে বালিশ মিষ্টি পাওয়া যায়।
মিষ্টির মূল উপকরণ দুধ, চিনি ও ছানা। দুধ থেকে তৈরি ছানার সঙ্গে ময়দা মিশিয়ে মণ্ড বানিয়ে সেটিই বালিশ আকারে তৈরি হয়। পরে চিনির রসে ভিজিয়ে পরিবেশনের সময় দেওয়া হয় ঘন দুধের মালাই প্রলেপ। সাধারণত এটি ২–৩ দিন ভালো থাকে, শীতকালে স্থায়িত্ব বাড়ে ৭–৮ দিন পর্যন্ত। আকারভেদে এর দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে প্রথম দিকে এটি বিক্রি হতো মাত্র ৫০ পয়সায়।
বর্তমানে গয়ানাথ ঘোষের দোকানের মালিক নিখিল মোদকের তিন ছেলে। বড় ছেলে বাবুল মোদক বলেন, “এটি জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। জিআই স্বীকৃতি আমাদের গর্বিত করেছে। আমরা মান বজায় রেখে ঐতিহ্য ধরে রেখেছি এবং দোকানের নামও পরিবর্তন করিনি। দেশের যেখান থেকেই মানুষ আসুক, বালিশ মিষ্টির স্বাদ নিতে তারা আমাদের দোকান ভিজিট করেন।” তাদের দোকানের কোনো শাখা নেই এবং অনলাইনে বিক্রিও করা হয় না।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, “নেত্রকোনার নাম শুনলেই সবার মনে বালিশ মিষ্টির কথা ভেসে ওঠে। আমরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। অনুমোদন হয়ে গেছে, অফিশিয়াল চিঠি পেলেই জিআই সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে।”