প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৬ পিএম

প্রতীকী ছবি
প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা এবং এর জেরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সনেকা বেগম (৩৮) নামের এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সনেকা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে সুখেরবাতি গ্রামের সন্তাজ মোল্লার ছেলে কালাচান মোল্লার সঙ্গে চরশৌলমারী বাজারপাড়া গ্রামের মোক্তব আলীর মেয়ে সনেকা বেগমের পারিবারিক বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। মেয়ে দুটির বিয়ে হয়ে গেছে।
ঘটনার দিন ২৬ সেপ্টেম্বর সনেকা বেগম এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে এসেই তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী কালাচান মোল্লা আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে এনেছেন। এ নিয়ে সনেকার সঙ্গে স্বামী, তার বড় ভাই সবুর আলীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বাদানুবাদ হয়। অভিযোগ উঠেছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সনেকার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সনেকা স্বামীর ওপর রাগ করে বিষপান করেন।
বাড়ির লোকজন বুঝতে পেরে অসুস্থ অবস্থায় সনেকাকে উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে স্বামী কালাচান তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে না নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রাখেন এবং সন্ধ্যার পর সনেকার মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়েই স্বামী কালাচান, তার দ্বিতীয় স্ত্রী, বড় ভাই সবুর আলীসহ পরিবারের সকলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
নিহতের বাবা মোক্তব আলীর অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে গালিগালাজ ও মারধর করা হতো। তিনি বলেন, "সে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি। তবে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমি তদন্ত সাপেক্ষে এর সঠিক বিচার চাই।"
এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক জানান, মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর