প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:১২ পিএম

জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ফিলিস্তিনপন্থী এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার জেরে কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ভিসা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। যদিও তিনি ইতোমধ্যে বোগোতায় ফিরে গেছেন।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, নিউইয়র্কের রাস্তায় ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভ চলাকালে পেত্রো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। ওই সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে তীব্র সমালোচনা করেন এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদকবাহী সন্দেহভাজন নৌকায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানান।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পেত্রো মেগাফোন হাতে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বলেন, বিশ্বের দেশগুলোকে একত্রিত হয়ে এমন এক সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর চেয়েও শক্তিশালী হবে। তিনি মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বলেন, “মানবতার দিকে অস্ত্র তাক করুন, ট্রাম্পের আদেশ অমান্য করুন, মানবতার আদেশ মানুন।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বক্তব্যকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঘোষণা করেছে, প্রেসিডেন্ট পেত্রোর ভিসা বাতিল করা হবে।
নিউইয়র্ক ত্যাগের পর বোগোয়া পৌঁছে পেত্রো নিজেকে “বিশ্বের একজন মুক্ত মানুষ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, “আমার আর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ভিসা নেই। তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়াকে মাদকবিরোধী যুদ্ধে মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি বাতিল করেছে, যদিও কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এখনো আরোপ করা হয়নি। দেশটির প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেত্রোর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ক্রমেই শীতল হয়ে উঠছে।
এদিকে কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্মান্দো বেনেদেত্তি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ভিসা বাতিল করা উচিত ছিল ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর, পেত্রোর নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ নেতানিয়াহুকে রক্ষা করে, আর সেই প্রেসিডেন্টকেই শাস্তি দেয় যিনি তাদের সামনে দাঁড়িয়ে সত্য বলার সাহস দেখিয়েছেন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ