প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৬ পিএম

পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিল অনুযায়ী রক্ষাকবচের দাবিতে আন্দোলনরত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে ভারতের প্রশাসন। জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা থ্রি ইডিয়টস-এ আমির খানের অভিনীত ‘র্যাঞ্চো’ চরিত্রটি তার আদলে নির্মিত হয়েছিল।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লাদাখের বেশ কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং রাজধানী লেহ শহরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। বুধবার যুব সমাজের বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে চারজন নিহত হন, আহত হন ৫০ জনেরও বেশি, যাদের অনেকেই পুলিশ সদস্য।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে লাদাখ অ্যাপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স। তবে মুখ্য চরিত্রে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক, যিনি তরুণদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি জানিয়েছেন, অনশন আন্দোলনের দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষুব্ধ হয়েই যুবসমাজ উত্তেজিত হয়েছিল। ওয়াংচুকের মতে, পুলিশ নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য ওয়াংচুককেই সহিংসতার জন্য দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, তার উসকানিমূলক ভাষণের কারণেই জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে সহিংসতা শুরু করে। এছাড়া অনশন শেষ করার পর ওয়াংচুক দ্রুত গ্রামে ফিরে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেননি।
২০১৯ সাল থেকে লাদাখের ভঙ্গুর পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার হন ওয়াংচুক। তিনি উন্নয়ন ও পর্যটনের নামে নির্বিচার প্রকৃতি ধ্বংসের বিরোধিতা করেন, খনিজ সম্পদ শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান। ধীরে ধীরে তিনি লাদাখি জনতার প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন, এমনকি দিল্লি অভিযানের নেতৃত্বও দেন।
ষষ্ঠ তফশিলভুক্তি ও পৃথক রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে ওয়াংচুক সম্প্রতি অনশন শুরু করলে সরকার তার সংস্থার বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। ইতোমধ্যে তার সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং সিবিআই তদন্ত শুরু হয়েছে।
থ্রি ইডিয়টস চলচ্চিত্রে তার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত চরিত্র র্যাঞ্চোর মতোই ওয়াংচুক লাদাখে শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি মোদি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লাদাখের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ