শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       ● নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       ● আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      ● সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      ● সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       ● আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      ● লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      ● কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      ● প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ● ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      ● অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ● ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
থেমে নেই মাফিয়া এস আলম গং, দেশ নিয়ে করছে নানা ষড়যন্ত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:২২ পিএম আপডেট: ২৮.০৯.২০২৫ ১:৩২ PM
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দুঃস্বপ্ন সাইফুল আলম মাসুদ ওরফে এস আলম। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও আলোচিত ব্যাংক লুটের ঘটনার খলনায়ক এই এস আলম। তিনিই ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তি যে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাংক লুট করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে দিয়েছেন।

১৯৮৪ সালে নিজের মামা আখতারুজ্জামান বাবুর ব্যবসায় যোগ দিয়ে এস আলম কর্মজীবন শুরু করেন। বাবু ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একজন নেতা। ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে ইউনাইটেড ব্যাংক দখল করে আখতারুজ্জামান বাবুর পরিবার। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাংক দখলের অপসংস্কৃতি চালু হয়। এই অপকর্মে আখতারুজ্জামানের বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন এস আলম। সেখান থেকেই এস আলম ব্যাংক দখলের অপকৌশল রপ্ত করে নেন।

পরবর্তীতে ইউনাইটেড ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন এস আলম। ১৯৯০ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসলে ব্যবসা সম্প্রসারণে মনযোগী হন এস আলম। ব্যবসার অন্তরালে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে থাকে এস আলম। এরপর থেকে যখন যে দল ক্ষমতায় যায় এস আলম তাদের লোক হয়ে উঠেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মামা আখতারুজ্জামান বাবুর সহযোগীতায় শেখ হাসিনার একান্ত ঘনিষ্টজন হয়ে উঠেন এস আলম। ফুলে ফেপে উঠে তার ব্যবসা। একসময় সরকার এবং রাষ্ট্রীয় মদদে একের পর এক ব্যাংক দখল করে দেশের বড় শিল্পপতি বনে যান।

২০১৭ সালে একই কায়দায় দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ’ দখল করেন এস আলম। এরপর একে একে ৮টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল করেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রণাধীন ৮ ব্যাংক এবং সরকারি ও বেসরকারি আরো কয়েকটি ব্যাংক থেকে নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে অর্থ পাচার করে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন এই আর্থিক মাফিয়া। পাচারকৃত সম্পদে সিঙ্গাপুরসহ অনেকগুলো দেশে ব্যবসা শুরু করেন এস আলম। সূত্রমতে ভবিষ্যৎ সঙ্কট এড়াতে ২০২২ তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নেন। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুর সরকার কালো টাকার কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করলে ৭৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে দুবাইয়ে চলে যান এস আলম।

দেশের এমন কোনো খাত নেই যেখানে এস আলম নগ্ন হস্তক্ষেপ করেননি। নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ যার সবই এখন মন্দঋণ । অন্যান্য ব্যাংকের মালিকদের সাথে যোগসাজসে ব্যাংকগুলো থেকে অবৈধভাবে ভাইসভারসা লোনের মাধ্যমে টাকা বের করে এস আলম গং। উদাহরণস্বরূপ এক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরেক ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সেটা আর ফেরত দিতো না। এছাড়া পারস্পারিক হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা মওকুফ করে দিতো এই সংঘবদ্ধ চক্র। চাকরি দেয়া বা অন্য প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে এই লুটেরারা। এস আলমের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সাংবাদিক থেকে শুরু বিভিন্ন পর্যায়ের লোক রয়েছে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এস আলমের স্বার্থ সংরক্ষণ করে আসছেন টাকা ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য মতে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এস আলম। 

এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ পেতে ধরনা দিতে হতো এস আলমের কাছে। তার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা নানাভাবে আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছেন তাকে। সরকারি মদদে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচার করে দেশের আর্থিক খাতকে ধ্বংস করে গেছে এই মাফিয়া। 

শেখ পরিবারের অর্থের যোগানদাতা

শেখ পরিবারের তিন ফাউন্ডেশনে আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে উপঢৌকন দেয়া হয়েছিল। আর এসব ফাউন্ডেশনের অর্থের যোগানদাতা ছিলেন এস আলমসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। এস আলম ইসলামী ব্যাংকসহ তার নিয়ন্ত্রণাধীন ৮টি ইসলামী ব্যাংক থেকে সিএসআরের অর্থ এসব তহবিলে জমা দিতেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সিআরআই ফাউন্ডেশন ও সূচনা ফাউন্ডেশন। এগুলোর প্রধান ছিলেন, শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা, শেখ হাসিনার ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, রেহেনা পুত্র ববিসহ শেখ পরিবারের আস্থাভাজন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মন্ত্রীরা।

দিল্লিতে হাসিনা-এস আলম বৈঠক

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের পাঁচ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের আরো অনেক নেতা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। দেশের বাইরে অবস্থান করলেও আওয়ামী লীগকে আবার দেশের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীরা। দেশে অবস্থান করা নেতাকর্মী ও আওয়ামী ঘনিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন হাসিনা। সম্প্রতি পালাতক হাসিনার সাথে দেখা করেন মাফিয়া এস আলম। বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় যে, দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে শেখ হাসিনাকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা যোগান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় লুটেরা এস আলম। যার মধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদ প্রদান করে।

দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে এস আলমের টাকা হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মিদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের নানা জায়গায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল দেখা যাচ্ছে।

দেশে বিদেশে বিভিন্ন লবিষ্ট

দেশ ও দেশের বাহিরে বিভিন্ন লবিষ্টের মাধ্যমে এস আলম তার ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক চরিত্রহীন এস আলম এখন জামায়াত ও বিএনপির একাধিক নেতার মাধ্যমে নিজের অপকর্মকে জায়েজ করা এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চালিয়ে নেয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।

ঋণের টাকা ফেরত না পেয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এস আলমের দেশে থাকা সম্পদ নিলামে তোলার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করে নিলামকৃত সম্পদ কাউকে না কেনার জন্য অনুরোধ করেন এস আলম। অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাচার ও লুটপাট করার অভিযোগে এস আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা চলমান রেখেছে দুদক।

যোগ্যতার যাচাই বাছাই ছাড়াই হাজার হাজার কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়োগ দিয়েছিলো দখলকৃত ব্যাংকগুলোতে। কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এদেরকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে এস আলম ঘনিষ্টদের বিরুদ্ধে। পাঁচ আগস্টের পর ঐসময় নিয়োগ পাওয়া বেশকিছু কর্মকর্তা-কর্মচারির চাকরি চলে যায়। বর্তমানে তারা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে উস্কানীমূলক পোস্টসহ বিভিন্নভাবে সরকার ও রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে লুট করা টাকা দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কাজে ব্যবহার জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জন্য বড় ধরণের হুমকি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে কেউ দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পায়। পাশাপাশি দেশবাসীকেও তাদের বিরুদ্ধে সেচ্চার হতে হবে।


স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো


আরও সংবাদ   বিষয়:   মাফিয়া এস আলম  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close