বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু      পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      
১% এর টাকায় ২৫% ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই ইউএনওকে বদলি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:১২ AM আপডেট: ২৮.০৯.২০২৫ ১:২২ PM

জমি কেনাবেচার ১% করের টাকায় স্থানীয় উন্নয়ন হওয়ার কথা থাকলেও, সেই টাকার ২৫% ঘুষ হিসেবে নিচ্ছেন- এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে।

গত ২৭ আগস্ট জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সদস্য আবদুল হামিদ বাবলু। তার সঙ্গে জমা দেন ১০ পাতার লিখিত অভিযোগ ও প্রায় এক হাজার মানুষের স্বাক্ষর।

জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল হাসান। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি ইতোমধ্যে একজন সাক্ষীসহ তদন্তে হাজির হয়েছেন এবং পরে আরও এক দফা ডাকা হতে পারে।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইউএনও ফয়সাল আহমেদকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার জুবায়ের হোসেন ওই বদলির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ১% এর টাকা বিভিন্ন ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বণ্টন করা হয়। সেখান থেকে ইউএনও ঘুষ নেন ২৫%। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ ইউএনওকে কিছু বলতে গেলে তিনি সাধারণ মানুষকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ঈদে সরকারিভাবে বরাদ্দ করা ভিজিডি এবং ভিজিএফ চাল সাধারণ গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে অবৈধভাবে আত্মসাৎ করার কারণে গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম আলীকে হাতেনাতে ধরেন ইউএনও ফয়সাল আহমেদ। কিন্তু কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে তাঁর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন। আর সংশ্লিষ্ট গ্রাম পুলিশ সদস্য ও ভ্যানচালককে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া চর আষাড়িয়াদহ ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বরাদ্দ করা ভিজিডি এবং ভিজিএফ খাতের চাল বিতরণে অনিয়ম হয়। বিষয়টি সম্পূর্ণ জ্ঞাত হওয়ার পরও ইউএনও কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেননি। পার্সেন্টেজ গ্রহণ করে তিনি পুরো নীরবতা পালন করেছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ইউনিয়নে উন্নয়ন খাতের জন্য কোনো কার্যাদেশ না দিয়েই জনগণের কাছ থেকে আদায় করা রাজস্ব খাতের ট্যাক্সের টাকা সরকারি খাতে জমা করেন না ইউএনও। কোনো কাজ না করে খরচ দেখিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধেও ইউএনও ফয়সাল আহম্মেদ কোনো পদক্ষেপ নেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। 

এছাড়াও গোদাগাড়ীর কাপাশিয়াপাড়া এলাকার মো. হামিদুজ্জামান মোহনপুর ইউনিয়নের নলীগ্রাম মৌজায় আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়ে খনন করছেন। বেআইনিভাবে এই পুকুর খনন বন্ধের জন্য ইউএনওকে লিখিতভাবে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি পুকুর খননকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী আবদুল হামিদ বাবলু জানান, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল হাসানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করেন। ১০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে ডেকেছিলেন। তিনি এবং আরেকজন ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়ে এসেছেন। তাঁকে আরেক দফা ডাকা হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ইউএনওকে জয়পুরহাটে বদলি করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এরা কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে বলতে পারব না।’ পাচার করা চাল উদ্ধার করলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশ যদি তদন্তে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পায়, তাহলে পুলিই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ আর ১% এর টাকা থেকে ঘুষ নেওয়াসহ অন্য সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সরকারি চাকরি করি, যেখানে সরকার প্রয়োজন মনে করে, সেখানেই বদলি করতে পারে।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত ফয়সাল আহমেদ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  ঘুষ   ইউএনও   দুর্নীতি     






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close