
সংগৃহীত ছবি
যানজট নিরসনে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণ ও ডিভাইডার নির্মাণ করা হলেও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌরসদরের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে যানজটের ভোগান্তি কমেনি। উল্টো যানজট, দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও যাত্রীরা।
সরকারি রেয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আজগর আলী বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে ইটের সলিং দিয়ে মোট ছয় ফুট প্রশস্ত করা হয়। মাঝখানে স্থাপন করা হয় রোড ডিভাইডার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ‘ভূঁইয়া কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই সড়কের অনেক অংশে ইট উঠে গেছে, ভারী যানবাহনের চাপে দেবে গেছে বেশ কিছু জায়গা। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর খানাখন্দ। বৃষ্টিতে এসব জায়গা ডোবা-নালায় পরিণত হয়, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে, বেড়ে যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়নকাজে বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ডিভাইডার বসানো হলেও রাখা হয়নি পর্যাপ্ত ইউ-টার্ন, নেই বড় গাড়ি ঘোরানোর জায়গা। ফলে চালকেরা বাধ্য হয়ে উল্টো পথে গাড়ি চালান, এতে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দৈনিক মালামাল পরিবহনকারী ট্রাকচালক লিটন মিয়া বলেন, ‘ডিভাইডার বসানো হলেও সঠিক নিয়ন্ত্রণ নেই। উল্টো পথে গাড়ি এসে জ্যাম সৃষ্টি করছে। সময়মতো মালামাল পৌঁছাতে পারছি না।’ সিএনজি চালক কামাল হোসেন বলেন, ‘ইটের সলিং দেবে গর্ত হয়ে গেছে। সাইড নিতে গেলে অটোরিকশা হেলে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।’
সবচেয়ে বেশি যানজট দেখা যায় দুইটি স্থানে, দেবিদ্বার নিউ মার্কেট চত্বর ও ফুলগাছতলা। নিউ মার্কেটে এলোমেলোভাবে সিএনজি, অটোরিকশা ও বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় পুরো সড়ক অচল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ফুলগাছতলায় অতিরিক্ত খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে যায়।
চালক ও যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, আড়াই কোটি টাকা খরচ করেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি, উল্টো যানজট বেড়েছে। মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নিয়মিত টহল ও তদারকি না থাকায় অনেক চালক উল্টো পথে গাড়ি চালাচ্ছেন, মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছেন, যা যানজটের অন্যতম কারণ।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। তারা জানায়, যানজটে আটকে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, পরীক্ষার দিনগুলোতে ভোগান্তি হয় চরমে।
সড়কের ভাঙা অংশে ইট-সুরকী ফেলে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা করা হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তা কয়েক দিনের মধ্যেই আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দেবিদ্বার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘যেসব স্থানে ইটের সলিং উঠে গেছে বা খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, তা মেরামতের চেষ্টা চলছে। আমাদের তহবিল সীমিত হলেও বিটুমিন দিয়ে সড়কটি নতুনভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো