প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:০৪ AM

সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। এর মধ্যেই নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন। তবে কেন আলাদা আলাদাভাবে রাজনীতিবিদরা বিমানবন্দর থেকে বের হয়েছেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
যুক্তরাষ্ট্রের বাংলা সংবাদপত্র ঠিকানা-তে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাহের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তাহের জানান, শুরুতে তাদেরকে চিফ অ্যাডভাইজারের বহরে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভিসার ধরনে পার্থক্য থাকায় জটিলতা তৈরি হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা ছিল জি-ওয়ান, যা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের ভিসা ছিল সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসা, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রয়োজন হয়। এ কারণে তারা আলাদাভাবে ইমিগ্রেশনে যান।
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জন্য ১০ মিনিটেরও বেশি অপেক্ষা করেছেন। বাংলাদেশ মিশনেরও ত্রুটি ছিল। সঠিকভাবে সমন্বয় করা হলে হয়তো আমরা একসঙ্গে বের হতে পারতাম এবং হামলার ঘটনাও ঘটত না।”
হামলার সময় তার অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সে সময় তিনি কিছুটা দূরে ছিলেন। কারণ, তাকে ঘিরে কর্মীরা শুধু তার নামেই স্লোগান দিচ্ছিলেন। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিব্রত বোধ করতে পারেন ভেবে তিনি দূরত্ব বজায় রাখেন।
তাহের বলেন, “আমাদের ছেলেরা তখন স্লোগান দিচ্ছিল, প্ল্যাকার্ড-ব্যানার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের বলেছিলাম ফখরুল ভাইয়ের নামেও স্লোগান দিতে। কিন্তু তারা উত্তেজিত হয়ে শুধু আমার নামেই স্লোগান দিচ্ছিল। এতে ফখরুল ভাই অস্বস্তি বোধ করছেন মনে করে আমি একটু পেছনে সরে দাঁড়াই। এরপর আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, ফুল দেওয়া হয়, আমি কয়েক মিনিট বক্তব্যও দিই। এই সময়ের ব্যবধানেই ঘটনাটি ঘটে।”
তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় আখতার হোসেনকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন তাদেরই কয়েকজন কর্মী। তাহের বলেন, “আখতারকে যে দু’জন ছেলে প্রোটেকশন দিয়েছে, তারাও আমাদের কর্মী। তারপরও এমন ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”