গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন নেভাতে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের লিডার শামীম আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের অগ্নিনির্বাপণ কাজে প্রাণ উৎসর্গ করা ফায়ার ফাইটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শামীমের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।
মারা যাওয়া শামীমের বড় ভাই রুহুল আমিন জানান, শামীমের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পিজাহাতী গ্রামে। বাবা আব্দুল হামিদ, স্ত্রী মনি আক্তার ও তিন সন্তান নিয়ে টঙ্গীতে বসবাস করতেন। প্রায় ২০ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত শামীম সম্প্রতি লিডার পদে পদোন্নতি পান।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শামীমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৯ জন ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু হয়েছে। এরা বিভিন্ন সময়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার তৎপরতা, দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জীবন উৎসর্গ করেছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গী বিসিক এলাকায় সাহারা সুপার মার্কেটের পাশে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট সেখানে আগুন নেভাতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারজন ফায়ার ফাইটারসহ কয়েকজন দগ্ধ হন। শামীমের মৃত্যু ছাড়াও তিনজন ফায়ার সার্ভিস সদস্যের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সব ধরনের চিকিৎসা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং শামীম আহমেদের ত্যাগকে দেশের অগ্নিনির্বাপণ সম্প্রদায়ের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।