প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:০৫ পিএম

পণের টাকা না পাওয়ায় গৃহবধূকে ‘শাস্তি’ দিতে ঘরে সাপ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। সেই সাপ ছোবলে যন্ত্রণায় গৃহবধূ চিৎকার করে উঠলেও খুলে দেওয়া হয়নি ঘরের দরজা। এ ঘটনায় ওই পরিবারের ৮ জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী গৃহবধূর দিদি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুর শহরের কলোনেলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমাবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম রেশমা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুর শহরের কলোনেলগঞ্জ এলাকার শাহানওয়াজ নামের এক যুবকের সঙ্গে ২০২১ সালে বিয়ে হয় রেশমার। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শাহানওয়াজ এবং তার পরিবার পণের টাকা আদায়ের জন্য গৃহবধূকে চাপ দিতেন, মারধর করতেন। মারধরের কারণে কিছুদিন আগেও দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। তা নিয়ে ঝামেলার জেরে রেশমাকে একটি ঘরে আটকে রেখে সাপ ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই গৃহবধূকে তার দিদি গিয়ে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি চিকিৎসাধীন।
থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী গৃহবধূর দিদি জানিয়েছেন, তাঁর বোনকে জোর করে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তাঁর শ্বশুর এবং শাশুড়ি। পরিবারের বাকিদেরও এই কাজে সমর্থন ছিল। ধরের পাশে একটি নালা দিয়ে তাঁরা সাপ ঢুকিয়ে দেন। সেই সাপ রাতে রেশমাকে ছোবল মারে। যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তরুণী। কিন্তু তা শুনেও কেউ দরজা খোলেননি। বরং ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করছিলেন। কোনও রকমে দিদির সঙ্গে রেশমা যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন। তার পর তিনি গিয়ে বোনকে উদ্ধার করেন। বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর এবং আরও তিন জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। খুনের চেষ্টার ধারাও তাতে যুক্ত হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্র: আনন্দবাজার
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম