প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৪ পিএম আপডেট: ২১.০৯.২০২৫ ৭:৪৬ PM

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাদরাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে জামাল উদ্দিন (৪৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে অভিযুক্তকে আদালতে প্রেরণ করে মডেল থানার পুলিশ।
এর আগে শনিবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর নানী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে তিরনইহাট ইউনিয়নের ঠুনঠুনিয়া এলাকায় জামাল উদ্দিনকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়।সে ওই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে বলে জানা যায়।
এছাড়া তিনি ঠুনঠুনিয়া মসজিদের ক্যাশিয়ার ছিলেন। ঘটনার পর মসজিদের দায়িত্ব থেকে তাঁকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মায়ের মৃত্যুর পর মাদরাসার ওই ছাত্রী ছোট থেকেই নানীর বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি নুরানী মাদরাসায় পড়ালেখা করতো। গত ১৭ জানুয়ারি সকালে ওই ছাত্রী তার নানীর বাড়ির পাশে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ফ্রিজ থেকে মুরগীর মাংস আনতে যায়। এসময় জামাল উদ্দিন বাড়ীতে লোকজন না থাকায় ওই ছাত্রীকে খারাপ প্রস্তাব দেন। এতে ছাত্রী অস্বীকৃতি জানালে জামাল উদ্দিন ক্ষিপ্ত ও রাগান্বিত হয়ে ধর্ষণ করেন। এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দীর্ঘ বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে জানাজানি হলে ঘটনাটি নিয়ে গ্রাম্য বিচার শালিসও হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি জামাল উদ্দিন ঘটনার দায় স্বীকার করলেও পরে তিনি তার স্ত্রী ও ভাইসহ আসামিদের সহযোগিতায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।গত ১৪ জুন সকালে ভিকটিমকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মিমাংসার আশ্বাসে পরে তাকে উদ্ধার করে তার পরিবার। এ ঘটনায় মাদ্রাসার ওই ছাত্রী বিচার না পাওয়ায় তার নানী মামলা দায়ের করলে রাতেই পুলিশ জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এজাহারে জামাল উদ্দিন ছাড়াও আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া জানান, রাতেই আসামি জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর