প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১৮ পিএম

ঝিনাইদহের পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। মহেশপুর, হরিণাকুন্ডু, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরে দীর্ঘদিন ধরে এ সেবা বন্ধ থাকায় প্রসূতিদের বাধ্য হয়ে ছুটতে হচ্ছে দূরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে। এতে একদিকে বেড়ে যাচ্ছে চিকিৎসা ব্যয়, অন্যদিকে মা ও নবজাতক পড়ছেন চরম ঝুঁকিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় এক বছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। একই পরিস্থিতি অন্য চার উপজেলাতেও। বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক ও এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবেই এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। অথচ হাসপাতালগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইন স্ট্যান্ডসহ সব সরঞ্জাম ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে গেলে খরচ অনেকটা কম হতো। কিন্তু বাধ্য হয়ে দূরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। কালীগঞ্জের কৃষক রহমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালেই যদি চিকিৎসা না পাই, তাহলে আমরা যাব কোথায়?”
হরিণাকুন্ডুর গৃহবধূ ফারজানা খাতুন জানান, “ক্লিনিকে গেলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়, যা গরিব মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, “সব উপজেলাতেই অপারেশনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক সংকট বড় সমস্যা। দ্রুত পদায়ন হলে আবারও সিজারিয়ান চালু করা সম্ভব হবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চিকিৎসক থাকলে শুধু এই পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই প্রতি মাসে অন্তত ২০০ প্রসূতি সরকারি সেবা পেতেন। দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান বন্ধ থাকায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ