প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:০৪ পিএম

ফাইল ছবি
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে ১৯৯৬ সালে কমলাপুর গ্রামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য সমন্বিত একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হতো। ব্রেইল পদ্ধতিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ ছিল।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা এবং পরিকল্পনার অভাবে বিদ্যালয়টি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নেই। বিদ্যালয়টি ভুতুড়ে পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অযাচিত লোকজনের আনাগোনা, নেশা ও জুয়ার আসর বসে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, “দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের চক্ষুজ্ঞান দানের বদলে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই দৃষ্টি হারিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকার জন্ম থেকেই অন্ধ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ দিতে যে উদ্যোগ নিয়েছিল তা প্রশংসনীয়, তবে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা বিদ্যালয়টিকে বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী নেই।
একই ক্যাম্পাসে থাকা কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, বিদ্যালয়টি সুন্দর পরিবেশে অবস্থান করছে। এখানে একজন অন্ধ শিক্ষার্থীর থাকাসহ সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে। শিক্ষার্থী না থাকার কারণে এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।
সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম, পঞ্চগড়-এর রিসোর্স শিক্ষক ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়ালিউল হক জানান, জনবল সংকট এবং শিক্ষার্থীর অভাবে আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম এখনও চালু আছে। স্থানীয় ও সব পক্ষের সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয় পুনরায় চালু করা সম্ভব।
পঞ্চগড় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। হাউস প্যারেন্টস, রিসোর্স শিক্ষক ও টিচার পাওয়া গেলে বিদ্যালয়ের আবাসিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যাবে। শিক্ষার্থীরা শুধু খাওয়া দাওয়ার জন্য এখানে থাকবে না, তাদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো