প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৫ পিএম

ভুক্তভোগী নারী কর্মী
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লেবার কন্ট্রাক্ট সোসাইটি (এলসিএস) প্রকল্পে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ পেতে জনপ্রতি ২৪ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাঁচ নারী কর্মী। তবে ঘুষ দিয়েও বর্তমানে তারা আর কাজ পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী নারীরা হলেন- সাথি খাতুন, বাসনা দাস, জোসনা খাতুন, চায়না খাতুন ও দিপালি দাস। তারা জানান, এলসিএস প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের ভোটার আইডি ব্যবহার করে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবই ফেরত না দিয়ে জমাকৃত টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। সমাধানের আশায় তারা উপজেলা এলজিইডি অফিসে গেলেও কোনো ফল পাননি।
বাসনা দাস বলেন, ‘এলসিএস প্রকল্পের সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম আমার বাড়িতে গিয়ে ২৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। এখন আমাকে কাজ না দিয়ে অন্য নারীকে দিয়েছেন।’
দিপালি দাস বলেন, ‘কাজ পেতে অফিসের কমিউনিটি অর্গানাইজার এলিজা নাজ ও সুপারভাইজার রবিউল ইসলামকে টাকা দিতে হয়েছে। আমরা টাকা ফেরত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।’
জোসনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দফায় ২৪ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন কাজ পাচ্ছি না। আমাদের ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে অন্যদের কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রকল্পটি দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে। এখন তারা চেকবই ফেরত চাইছে।’
অন্যদিকে কমিউনিটি অর্গানাইজার এলিজা নাজ বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এর পেছনে বড় রহস্য আছে। আমি প্রমাণ দিতে পারব।'
এ বিষয়ে জানতে শৈলকুপা উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো