প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:০০ পিএম আপডেট: ১৮.০৯.২০২৫ ৮:০৪ PM

প্রতীকী ছবি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৮ বছরের এক শিশুকে শ্লীলতাহানী ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মো. ইয়াছিন ডাক্তার নামে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আটককৃত ইয়াছিন উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তরপাড়ার স্থানীয় একতা বাজারের পল্লী চিকিৎসক। ভিকটিম একই ইউনিয়নের স্থানীয় একটি মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। আটককৃত ইয়াছিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তরপাড়ায় ঘটনার দিন ভিকটিম অভিযুক্তের বাড়ির পাশের ক্ষেতে মাছ ধরা দেখতে যায়। এ সময় পেয়ারা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ইয়াছিন তাকে একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাকে ৩টি পেয়ারা দেয়। পরে কৌশলে তাকে ওই বাড়ির একটি পরিত্যাক্ত রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে চৌকির উপর শোয়ায়। এ সময় সে শিশুটির পরনে থাকা জিন্স প্যান্ট খুলে তার শ্লীলতাহানি সহ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এসময় শিশুটি জোরে চিৎকার করলে অভিযুক্ত ইয়াছিন শিশুটিকে ছেড়ে দেয়। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ভিকটিমর তার মাকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি খুলে বলে। ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক নিজ চেম্বারে না বসে গা ঢাকা দেন।
পরে গত মঙ্গলবার ভিকটিমের মা হাজেরা আক্তার বাদী হয়ে মো. ইয়াছিনকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় এজাহার দায়ের করে। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।
এ বিষয়ে মামলার বাদী হাজেরা আক্তার বলেন, ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য। আমি থানায় মামলা করেছি। আসামিকে আটকের পর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক মো. ইয়াছিন এর স্ত্রী নাছরিন সুলতানা মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনায় আমাদের পরিবারের মান-সম্মান শেষ। যেহেতু থানায় মামলা হয়েছে এবং আমার স্বামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা আদালতের মাধ্যমে উনার জামিনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে যাচাই-বাছাই করার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো