প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৯ পিএম আপডেট: ১৭.০৯.২০২৫ ৯:৪২ PM

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার ভাটারা এলাকার বাসিন্দা মাকসুদা আনছারী তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জ্বরে ভুগছেন। প্রথমে ডেঙ্গু টেস্টে নেগেটিভ আসার পর কয়েকদিন পরে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়। তিনি বলেন, এখনও পায়ের প্রতিটি জয়েন্টে ভয়াবহ ব্যথা আছে, হাঁটতেও খুব কষ্ট হয়।
দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ানো এই দুই রোগের উপসর্গ প্রাথমিকভাবে অনেকটা একই রকম হওয়ায় অনেক রোগী প্রথমে ডেঙ্গুর টেস্ট করান। কিন্তু নেগেটিভ আসার পর উপসর্গ দেখে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার পার্থক্য
ডেঙ্গুতে সাধারণত তীব্র জ্বর থাকে, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে শরীরে লাল র্যাশ দেখা দেয়। প্লাটিলেট কমে গেলে রক্তক্ষরণ হতে পারে, এবং শক সিনড্রোমের ঝুঁকি থাকে। শরীরের ব্যথা থাকে, কিন্তু এতটা তীব্র নয়।
চিকুনগুনিয়ায় জ্বরের তীব্রতা প্রথম দুই-তিন দিনে বেশি থাকে না, তবে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। হাত-পা ফুলে যেতে পারে, শরীরে র্যাশ তেমন দেখা যায় না। প্লাটিলেট কমে বা রক্তক্ষরণ হয় না, তাই মৃত্যুর ঝুঁকি নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্ট ব্যথা থাকে, যার কারণে রোগী চলাফেরা করতে কষ্ট পান।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গুর টেস্ট জ্বরের দুই-তিন দিনের মধ্যে বেশি কার্যকর। চিকুনগুনিয়ার টেস্টের জন্য জ্বরের পাঁচ থেকে সাত দিন অপেক্ষা করতে হয়। রাইট-পিসিআর ও সেরোলজি পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস ও অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা যায়।
চিকিৎসা ও সেবা
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগী সাধারণত সমর্থনমূলক চিকিৎসা পান। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল এবং ব্যথার জন্য পেইনকিলার দেওয়া হয়। ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট কমলে রক্ত দিতে হতে পারে। চিকুনগুনিয়ায় মূলত ব্যথা কমানোই চিকিৎসার লক্ষ্য। দুই রোগেই প্রচুর পানি, ফল ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মাকসুদা আনছারীর মতো রোগীদের জন্য চিকিৎসকরা জোর দেন যথেষ্ট বিশ্রাম ও জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার ওপর। চিকুনগুনিয়ার তীব্র জয়েন্ট ব্যথা অনেক সময় এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।