প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৬ পিএম

রৌমারীতে খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উজ্জল কুমার হালদার অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ডিলারের চালের গুদাম ঘর সিলগালা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা ও কিছু ডিলারের যোগসাজসে নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, রৌমারীর ৬টি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ৪১ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার উপকারভোগীকে চাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়, যা সপ্তাহের সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার তিনদিনে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ এসেছে, খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহিত ৫০ কেজির বস্তা চালও আসলে কম ওজনে, নিম্নমানের এবং খাওয়ার অনুপযোগী। কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছেন, ৩০ কেজির স্থলে ২৮ থেকে ২৯ কেজি চাল দেওয়া হয়। এছাড়া চাল দুর্গন্ধযুক্ত ও নিম্নমানের, এবং কেউ অস্বীকার করলে ডিলাররা খারাপ আচরণ করেন।
ডিলাররা জানিয়েছেন, সদর এলাকায় ভালো চাল দেওয়া হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডিলারদের কাছে খারাপ ও দুর্গন্ধযুক্ত চাল পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ ডিলারদের হুমকি দেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রৌমারীর সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে নিম্নমানের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
খাদ্যগুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ বলেন, আমি ডিলারদেরকে খারাপ চাল সরবরাহ করিনি। তবে তারা ভাল চাল অন্যত্র বিক্রি করে খারাপ চাল বিতরণ করতে পারে।
ইউএনও উজ্জল কুমার হালদার জানান, নিম্নমানের চাল বিতরণের অভিযোগে সরেজমিনে খাদ্যগুদাম পরিদর্শন ও অভিযান চালানো হয়। কয়েকটি ডিলারের ঘর পরিদর্শন করে খারাপ চালের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে রৌমারী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ময়নাল হকের গুদামে অভিযান চালিয়ে সরকারি বস্তাসহ নিম্নমানের চাল পাওয়া যায়। তার দুটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর