
ফাইল ছবি
ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মেহেদী উল্লাহ। অভিযোগ উঠেছে, বিজ্ঞপ্তির শর্ত শিথিল ও প্রভাব খাটিয়েই তিনি নিয়োগ বাগিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, পরে নিজেও পছন্দের শিক্ষার্থীকে শিক্ষক বানাতে নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষক পদে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং অনার্স-মাস্টার্সে ৩.৫০ সিজিপিএ থাকতে হয়। কিন্তু মেহেদী উল্লাহর অনার্সের ফল ছিল মাত্র ৩.৩১। তবুও ২০১৫ সালের ১২ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত শিথিল করে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়। বিশেষ যোগ্যতার অজুহাতে তিনি ‘বেহুলা বাংলা’ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত ফোকলোরের প্রথম পাঠ বই এবং জেমকন সাহিত্য পুরস্কারকে যোগ্যতা হিসেবে দেখান। অনুসন্ধানে জানা যায়, বইটির বড় অংশই কপি-পেস্ট এবং পুরস্কারটি কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নয়, বেসরকারি কোম্পানির।
এর আগেও তৎকালীন উপাচার্যের পিএস খন্দকার এহসান হাবিবের ভাই হওয়ার সুবাদে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। যদিও সিন্ডিকেটে তার নিয়োগ বাতিল হয়। সেই ঘটনার পরপরই তিনি বিতর্কিত বইটি প্রকাশ করেন।
এবিষয়ে চাকরি বঞ্চিত প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি অনার্স-মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েও বঞ্চিত হয়েছি। মেহেদী উল্লাহর ফলাফল যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে না। তার দেখানো পুরস্কার ও গ্রন্থ কোনোটিই জাতীয় মানের নয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক থাকাকালীন সময় পছন্দের শিক্ষার্থী প্রদিতি রাউত প্রমাকে নিয়োগ দিতে ফলাফলে কারসাজি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্য প্রার্থীদের সিজিপিএ কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে কেবল প্রমাই আবেদন করতে পারে। এমনকি তার কয়েকটি কোর্সে ইমপ্রুভ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও অভিযোগ আছে।
এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও তিনি বাধার অভিযোগে সমালোচিত হন। এর আগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে চাকরি স্থায়ীকরণ স্থগিত ও শোকজ করেছিল প্রশাসন।
এ বিষয়ে ড. মেহেদী উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন—
আমি বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ শর্ত পূরণ করেই আবেদন করেছি। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়ে প্রভাষক পদে স্থায়ী নিয়োগ পাই। বিশেষ যোগ্যতার শর্ত কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন উপাচার্যের পিএস খন্দকার এহসান হাবিব আমার ভাই নয়। সে সম্পর্কিত দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
এই অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তরে দুই সেমিস্টারে পাঁচটি করে মোট দশটি কোর্স ছিল। সেখানে প্রথম সেমিস্টারে আমার দায়িত্বে মাত্র একটি কোর্স ছিল। ফলে পুরো ফলাফলের ওপর আমার একক কোনো প্রভাব থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি এটাও দাবি করেন—
আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপমানিত করার জন্য এসব প্রচার করা হচ্ছে। আমি নিয়ম মেনে নিয়োগ পেয়েছি এবং আমার কাজে সততা বজায় রেখেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, এসব বিষয় নিয়ে একাডেমিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোহিত উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো