
সংগৃহীত ছবি
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) সাংবাদিক জন লায়ন্সের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত লায়ন্সের করা একটি প্রশ্নকে ঘিরে। তিনি জানতে চান, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প কতটা ধনী হয়েছেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না আমার সম্পদের অবস্থা কী। আমার ব্যবসা এখন সন্তানরাই পরিচালনা করছে।
তবে প্রশ্নের ধরন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আপনি অস্ট্রেলিয়ার ক্ষতি করছেন। অস্ট্রেলিয়া আমার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। আমি শিগগিরই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব এবং আপনার ব্যাপারে তাকে জানাব।
লায়ন্স আরেকটি প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে ট্রাম্প আঙুল ঠোঁটে দিয়ে তাকে ‘চুপ’ করতে বলেন এবং অন্য এক সাংবাদিকের দিকে মুখ ফেরান। এই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে।
প্রতিক্রিয়ায় জন লায়ন্স বলেন, ন্যায্য প্রশ্ন করা বন্ধুত্বের ক্ষতি নয়। এবিসিকে তিনি জানান, তার প্রশ্নগুলো গবেষণাভিত্তিক ছিল এবং কোনোভাবেই অপমানজনক নয়। এবিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রশ্নগুলো তাদের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ফোর কর্নারস এর অংশ, যেখানে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আর্থিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরে হোয়াইট হাউসের একটি অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করে লেখা হয়, ট্রাম্প একজন অভদ্র বিদেশি ভুয়া সংবাদ পরিবেশনকারীকে শিক্ষা দিলেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়ার যৌথ ‘অকাস’ সাবমেরিন চুক্তি পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছে। ২৩৯ বিলিয়ন ডলারের এ চুক্তির পাশাপাশি গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার সব ধরনের রপ্তানির ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, এটি কোনো বন্ধুর কাজ নয়। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন এবং নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি