প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:০০ পিএম আপডেট: ১৫.০৯.২০২৫ ৯:০১ PM

ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে দোকান থেকে টেস্টিং সল্ট (এমএসজি) উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
হল সংসদের নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) আজিজুল হক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোকানদারকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, সূর্যসেন হলের ৮ নম্বর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি টেস্টিং সল্ট জব্দ করেন ভিপি আজিজুল। প্রথমে দোকানদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাবারে এমএসজি ব্যবহার করার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে একটি লিখিত চুক্তিনামায় দোকানদার সই করেন, যেখানে বলা হয় তিন দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে দোকানের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
ভিপি আজিজুল হক জানান, প্রথমে দোকানদার টেস্টিং সল্ট থাকার বিষয়টি মানতে চাননি। কিন্তু পরে ধরা পড়ার পর স্বীকার করতে বাধ্য হন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই তিনি এ পদক্ষেপ নেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, ছাত্রনেতাদের জরিমানা করার কোনো এখতিয়ার নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই হল প্রশাসনের মাধ্যমে হতে হবে। তার মতে, ছাত্রনেতারা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করেন, তবে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে হলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।
ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ঈদুল ফয়সাল বলেন, ডাকসু নেতাদের জরিমানা করার বা চলাফেরার স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, প্রশাসন এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভিপি আজিজুল হকের পদক্ষেপ অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রশংসনীয় মনে হচ্ছে।
ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ ভিপির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন তিনি প্রশাসনিক সীমা অতিক্রম করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো